পাকিস্তানের সেনাবাহিনী কোন পক্ষে?

 


রাজনৈতিক সংকট ঘনীভূত হওয়ায় পাকিস্তানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী তৎপর হয়ে উঠেছে। দেশটির রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে সামরিক বাহিনীর ভূমিকা সব সময়েই গুরুত্বপূর্ণ। এবার তারা চলমান সরকারের পক্ষে থাকবে নাকি বিরোধী পক্ষে যোগ দেবে, তা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ধোঁয়াশা।


শুক্রবার একটি বেসরকারি চ্যানেলে এক প্রশ্নের জবাবে ইমরান খান বলেন, সামরিক এস্টাবলিশমেন্ট তার কাছে বিরোধী দলের কাছ থেকে তিনটি বিকল্প উপস্থাপন করেছে। খবর দ্য নিউজের।


প্রতিবেদন অনুযায়ী সামরিক সূত্র বলেছে, সামরিক নেতৃত্ব বিরোধী দলের কাছ থেকে কোনো প্রস্তাব আনেনি। তারা বরং বেসামরিক সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে ফোন করে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করার জন্য একটি বৈঠকের প্রস্তাব করেছে।


সরকারের অনুরোধে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া ও গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই ডিজি বুধবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। দুপক্ষ সেখানে তিনটি বিকল্প নিয়ে আলোচনা করেন।


সামরিক বাহিনীর সূত্র জানায়, তিনটি বিকল্পের মধ্যে রয়েছে— জাতীয় পরিষদে অনাস্থা প্রস্তাব মোকাবিলা করা, ইমরান খানের পদত্যাগ করা এবং পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া। তবে প্রধানমন্ত্রী প্রথম দুটি বিকল্প প্রত্যাখ্যান করে তৃতীয়টিতে সম্মত হন।


সামরিক সূত্র আরও জানায়, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এসব আলোচনার পর সেনাপ্রধান ও আইএসআই ডিজি একই দিন বিরোধী নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন। তারা সামরিক বাহিনী ও বেসামরিক নেতৃত্বের মধ্যে অনুষ্ঠিত আলোচনা তাদেরকে অবহিত করেন। তবে বিরোধী নেতৃত্ব পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়াসহ তিনটি বিকল্পই নাকচ করে দেন।


সামরিক সূত্র জানায়, সামরিক নেতৃত্ব বিরোধী নেতাদের জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপ করবে না। তারা কেবল সরকারের সঙ্গে আলোচিত তিনটি বিকল্প প্রস্তাব বিরোধী শিবিরকে পৌঁছে দিয়েছে।


দ্য নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামরিক এস্টাবলিশমেন্ট কোনো পক্ষ নেবে না, তারা নিরপেক্ষ থাকবে এবং প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দল উভয় পক্ষকে একসঙ্গে বসে আরও ভালো ভবিষ্যত, স্থিতিশীল অর্থনীতি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য আলোচনা করতে উৎসাহিত করবে।


Post a Comment

Previous Post Next Post