রাশিয়ার তেলের ডিপোতে ইউক্রেনের হামলা চালিয়েছে বলে স্থানীয় সময় শুক্রবার সকালে অভিযোগ করেছে মস্কো। তবে এই হামলা নিয়ে ‘রহস্যময় আচরণ’ করছে ইউক্রেন। ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ওই হামলার সঙ্গে ইউক্রেন জড়িত আছে কি না, সে ব্যাপারে তিনি কোনো মন্তব্য করতে পারবেন না। বিবিসি শুক্রবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশতে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, তিনি একজন বেসামরিক নাগরিক। তাই রাশিয়ার ওই তেলের ডিপোকে আদৌ ইউক্রেন হামলা চালিয়েছে কি না সে ব্যাপারে কোনো সামরিক তথ্য তার কাছে নেই।
এদিকে, ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওলেক্সান্ডার মোতুজিয়ানিকের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, ইউক্রেন বর্তমানে নিজেদের ভূখণ্ডে রুশ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে একটি প্রতিরক্ষামূলক অভিযান পরিচালনা করছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে রাশিয়ার ভূখণ্ডে প্রতিটি বিপর্যয়ের জন্য ইউক্রেন দায়ী। আমি এই অভিযোগ নিশ্চিত কিংবা নাকচ কোনোটাই করছি না।
রাশিয়ার বেলগোরদ প্রদেশের গভর্নর শুক্রবার স্থানীয় সময় সকালে দাবি করেন, ইউক্রেনের দুটি এমআই-২৪ হেলিকপ্টার করে ইউক্রেন এ হামলা করে।
ওই হামলা নিয়ে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছে ক্রেমলিন। তেলের ডিপোতে এই হামলা শান্তি আলোচনাকে বাধাগ্রস্ত করবে বলে জানিয়েছে মস্কো। ক্রেমলিন জানায়, এই হামলা শান্তি আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে স্বস্তিদায়ক পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে না।
এ ব্যাপারে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের একজন মুখপাত্র জানান, পুতিনকে ওই হামলার বিষয়ে অবহিত হয়েছে। শহরের জ্বালানি সরবরাহ যেন বিঘ্ন না হয়, সেই লক্ষ্যে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে ওই মুখপাত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
বেলগোরদ শহরটি ইউক্রেনের উত্তর সীমান্তঘেঁষা রাশিয়ার একটি শহর। দুদিন আগে এই এলাকার একটি অস্ত্রাগারে বিস্ফোরণের ঘটনার পর অভিযোগের তীর ছোড়া হয় ইউক্রেনের দিকে। এবার অভিযোগ এলো তেল ডিপোতে হামলার।
