এবার শাওনকে নিয়ে যা বললেন হু'মায়ূন আহমেদের ছে'লে নুহাশ হু'মায়ূন

 


আমি নিশ্চিত অনেকই ‘দেবী’ মুক্তির জন্য খুব আগ্রহ নিয়ে অ’পেক্ষা করছেন। মানুষের আগ্রহের কারণ, এই সিনেমাটি নির্মাণের জন্য ক্যামেরার সামনে আর পেছনে খুব মেধাবী কিছু মানুষ কাজ করেছেন।


কিন্তু এটাও অস্বীকার করার কোন উপায় নেই যে ‘দেবী’ নিয়ে মানুষের আগ্রহের বড় এবং অন্যতম আরেকটা কারণ, এর চরিত্রগু’লো, গল্প আর এর সাথে জড়ানো কিংবদন্তি মানুষটির নাম। অনেকেই হয়তো জানেন ‘দেবী’


নির্মাণ হয়েছে আমা’র বাবা হু'মায়ূন আহমেদের লেখা উপন্যাস থেকে আর এখানে ‘মিসির আলী’ চরিত্রটি আছে। ‘মিসির আলী’-হু'মায়ূন আহমেদের সৃষ্টি করা এমন একটা চরিত্র, যাকে আম'র’া সবাই


ভালবাসি। কিন্তু যা অনেকেই জানেন না তা হল, এই সিনেমাটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে আমা’র এবং আমা’র তিন বোনের (নোভা আহমেদ, শীলা আহমেদ, বিপাশা আহমেদ) অনুমতি ছাড়াই।


হু'মায়ূন আহমেদের সমস্ত সৃষ্টি এখন তার উত্তরাধিকারদের স্বত্বাধিকারে। আমা’দের চার ভাইবোনের অনুমতি ছাড়া যে এই সিনেমাটি মুক্তি দেয়ার কাজ চলছিলো, সেটা সম্পূর্ণ আইন বহির্ভূত ছিল। যখন এই সিনেমা’র প্রযোজক জয়া


আহসান এই বিষয়ে জানলেন, তিনি সাথে সাথেই আমা’র পরিবারের সাথে যোগাযোগ করলেন এবং আমা’দের চারজনের অনুমতি নেয়ার জন্য আইনগত সব ব্যাবস্থা নিলেন। তিনি এই সিনেমা’র মা’র্কেটিংসহ বাকি কাজ বন্ধ


রাখলেন আমা’দের চার ভাইবোনের চুক্তিপত্রে সাইন হওয়া পর্যন্ত। নিয়ম অনুযায়ী আমা’দের অনুমতি ছাড়া দেবী সিনেমা’র কোন কাজই শুরু ’হতে পারে না। তারপরও হয়েছে। কিন্তু যখন জয়া আহসান আমা’দের কাছে দুঃখ


প্রকাশ করলেন এবং আমা’দেরকে তার দিকের ব্যাখ্যা দিলেন, তখন আমা’দের মনে হয়েছে -এটা তার দিক থেকে একটা অনিচ্ছাকৃত ভুল ছিল। আর তিনি যে এটা সংশোধন করতে চাচ্ছেন এটা একটা দায়িত্বশীল আচরণের বহিঃপ্রকাশ।


কিন্তু বেশিরভাগ নির্মাতারা (যারা আমা’র বাবার সৃষ্টি নিয়ে কাজ করেছেন/করতে যাচ্ছেন) এতটা দায়িত্বশীল আচরণের পরিচয় দেননি অথবা দিচ্ছেন না, তাই আমি কিছু জিনিস স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে চাই- যেন এই জাতীয় ভুল বারবার না হয়।


অনেক নির্মাতাই আমা’দেরকে জানিয়েছেন তারা আমা’র বাবার স্ত্রী'-মেহের আফরোজ শাওনকে এককালীন কিছু টাকা দিয়ে অনুমতি নিয়েছেন এবং নাট'ক নির্মাণ করেছেন। শাওন আমা’র বাবার ‘ইনটেলেকচুয়াল প্রপার্টির’(গল্প,


উপন্যাস, তার সৃষ্ট যেকোনো কিছু ) একমাত্র উত্তরাধিকার না। তাই আমা’দের চার ভাইবোনের অনুমতি ছাড়া, শুধুমাত্র শাওনের অনুমতি নিয়ে, হু'মায়ূন আহমেদের সৃষ্টি নিয়ে কাজ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।


কিছু নির্মাতার অজুহাত হল, ‘আপনাদেরকে পাওয়া কঠিন’– আসলেই কি তাই? সিনেমা নির্মাণ করা একটা কঠিন কাজ ’হতে পারে, কিন্তু ঢাকা শহরে কোন মানুষের সাথে যোগাযোগের উপায় বের করা বেশ সহ'জ। আমা’র ফেইসবুক পেইজটা পর্যন্ত ভ্যারিফাইড, তাহলে আর কত সহ'জ উপায়ে আমা’র বা আমা’দের সাথে যোগাযোগ করতে চান?


আরেকটা সাধারণ ভুল ধারণা হলো- আমা’দের চাচা মুহা’ম্ম'দ জাফর ইকবাল এর অনুমতি নেয়া আর আমা’দের চার ভাইবোনের অনুমতি নেয়া একই কথা। আমা’র মনে হয় এটা খুব স্পষ্ট করা দরকার- মুহা’ম্ম'দ জাফর ইকবাল আমা’দের চাচা এবং আমা’দের প্রিয়জন, কিন্তু তিনি আমা’দের কোন মুখপাত্র অথবা অ'ভিভাবক না এবং হু'মায়ূন আহমেদের ‘ইনটেলেকচুয়াল প্রপার্টির রাইট’ নিয়ে আমা’দের চার ভাইবোনের হয়ে তিনি কিছু বলার অধিকার রাখেন না।


আশা করি আমা’র এই লেখাটি কিছু সাধারণ ভুল ধারণা দূর করবে, আর যেই সব নির্মাতারা আমা’র বাবার সাহিত্য নিয়ে কাজ করতে চান, তারাও নির্মাণের আগে প্রয়োজনীয় আইনগত ধাপগু’লো ভাল করে জেনে নিবেন। এটা ’হতে পারে মিসির আলী, হিমু অথবা আমা’র বাবার অন্য যেকোনো অনবদ্য সৃষ্টি – সেটা যাই হোক, এইসবই এখন অমূল্য সম্পদ আর তার উত্তরাধিকার(এবং তার সব ধরনের সৃষ্টির বিশাল ভক্ত) হিসেবে আমা’দের দায়িত্ব খেয়াল রাখা এইসব যেন সঠিক আর মেধাবী নির্মাতার হাতে পড়ে।


আমা’র মনে হয়, মাঝে মাঝে ‘না’ বলতে পারাটাও এখন আমা’দের জন্য খুব জরুরি। আমি নিশ্চিত হু'মায়ূন আহমেদের ভক্তরা তার কাহিনী নিয়ে তৈরি হাতে গোনা কয়েকটা অসাধারণ কাজই পছন্দ করবে, একশোটা মাঝারি মানের কাজের চেয়ে। আর আসলেই কি প্রত্যেকটা সাহিত্যকর্মকে সিনেমা অথবা নাট'ক বানানোর প্রয়োজন আছে? আমা’র বাবাতো এমনিই আমা’দের বুকের মধ্যে বেঁচে থাকবেন তার সৃষ্টির জন্য- তার কাহিনী নিয়ে নাট'ক বা সিনেমা নির্মাণ তো তার অবস্থান পরিবর্তন করছে না আমা’দের কাছে।


জয়া আহসানের জন্য শুভ কামনা থাকল। আর আশা করছি অন্য নির্মাতারাও এটাকে সঠিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখবেন, কিভাবে সবার জন্য সম্মানজনকভাবে আমা’র বাবার ইনটেলেকচুয়াল প্রপার্টি নিয়ে কাজ করা যায়। এটা কিন্তু কোন আর্জি না বা অনুরোধ না- ভালো'ভাবে ‘ইনটেলেকচুয়াল প্রপার্টি’ আইন পড়ে দেখলেই বিষয়টি বোঝা যাবে।


(ফেসুবক থেকে সংগৃহীত)

Post a Comment

Previous Post Next Post