এক রাতেই জ্বীন-পরীরা নির্মাণ করেন ‘বালিয়া ম'সজিদ’

 


ম'সজিদটি তৈরি হয়েছিল এক রাতেই। জ্বিন-পরীরা সারারাত জেগে এই ম'সজিদ বানিয়েছে। অনেক রকমের কারুকার্যময় অলংকরণ ও পুরু দেয়াল গড়তে গড়তে রাত শেষ হয়ে যায়। দিনের আলোয় জ্বিন-পরীরা থাকে না, তাই গম্বুজের কাজ শুরু না করেই তারা চলে যায়। অসম্পূর্ণ থেকে যায় ম'সজিদটি-ঠাকুরগাঁওয়ের প্রাচীন ম'সজিদ স'ম্পর্কে প্রচলিত আছে এমনই লোককাহিনী। ঠাকুরগাঁও জে'লা শহর থেকে উত্তর দিকে পঞ্চগড় মহাসড়ক ধরে দশ কিলোমিটার এগিয়ে গেলেই ভুল্লি বাজার। সেখান থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার পূর্বে বালিয়া ‘জিন ম'সজিদ’ নামে এই ঐতিহাসিক ম'সজিদটি অবস্থিত। ম'সজিদটি দেখতে দেখতে একটু ভেতরে প্রবেশ করতেই হঠাৎ রমজান আলী নামে একজন বলে উঠলেন ভাই কাউকে খুঁজছেন। এরপর তার মুখ থেকে শোনা গেলো এই জিনের ম'সজিদের নামকরণের গল্পটি।


তিনি জানান, কোনো এক অমাবস্যার রাতে জ্বিন-পরীরা বালিয়া ইউনিয়নের উপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় এলাকাটি তাদের পছন্দ হয়। তারপর জ্বিন-পরীরা মাটিতে নেমে এসে ম'সজিদ নির্মাণের কাজ শুরু করে। কিন্তু গম্বুজ তৈরির আগেই ভোর হয়ে যাওয়াতে কাজ অসমাপ্ত রেখে চলে যায় তারা। ফলে গম্বুজ ছাড়া দাঁড়িয়ে থাকে অসাধারণ কারুকার্যময় এই ম'সজিদটি। জ্বিন-পরীরা কিছু অংশ তৈরি করেছে বলে স্থানীয়দের কাছে এটি জিনের ম'সজিদ নামে পরিচিত।


স্থানীয় বাসিন্দা ইবরাহিত আলী বলেন, ‘ম'সজিদটির বয়স প্রায় ১১০-১১২ বছরের মতো হবে। আমাদের এই এলাকাটি একটি উঁচু ও পিরামিড আকৃতির ছিল। বন জঙ্গলের মধ্যেই ছোট্ট একটি ম'সজিদ ঘর নির্মাণ করে এলাকার মানুষ নামাজ আদায় করত। এরপর ম'সজিদ কমিটির ও স্থানীয় সকলের সহযোগিতায় এই ম'সজিদের বাকি কাজ সম্পূর্ণ করা হয়।’ ম'সজিদের গায়ে খোদাই করা সন অনুসারে এটি নির্মিত হয় ১৩১৭ বঙ্গাব্দে মানে ১৯১০ খ্রিষ্টাব্দে। আবার ম'সজিদের নির্মাতা মেহের বকস চৌধুরীর কবরেও তার মৃ'ত্যুর সন খোদাই করা আছে ১৩১৭ বঙ্গাব্দ। মেহের বকসের মৃ'ত্যুর সময়েই ম'সজিদটির বেশির ভাগ কাজ শেষ হয়ে যায়।


জমিদার মেহের বকস চৌধুরী উনবিংশ শতাব্দীর শেষ ভাগে বালিয়াতে এক ম'সজিদ তৈরির পরিকল্পনা করেন। এই জন্য দিল্লির আগ্রা মতান্তরে মুর্শিদাবাদ থেকে স্থপতি আনা হয়। মুঘল স্থাপত্যের রীতি অনুযায়ী ডিজাইনকৃত এই ম'সজিদ তৈরি করাটা ছিল অনেক জটিল ও সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। হঠাৎ প্রধান স্থপতির মৃ'ত্যুর ফলে ম'সজিদ নির্মাণের কাজ থেমে যায়। মেহের বকস স্থানীয় কারিগরের সহায়তায় পুনরায় ম'সজিদ নির্মাণের কাজ শুরু করেন। কিন্তু স্থানীয় কারিগররা ম'সজিদের গম্বুজ নির্মাণে ব্যর্থ হন। ১৯১০ সালে মেহের বকস চৌধুরী মৃ'ত্যুবরণ করেন।


জমিদার মেহের বকস চৌধুরী উনবিংশ শতাব্দীর শেষ ভাগে বালিয়াতে এক ম'সজিদ তৈরির পরিকল্পনা করেন। এ জন্য দিল্লির আগ্রা মতান্তরে মুর্শিদাবাদ থেকে স্থপতি আনা হয়। মুঘল স্থাপত্যের রীতি অনুযায়ী ডিজাইনকৃত এই ম'সজিদ তৈরি করাটা ছিল অনেক জটিল ও সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। হঠাৎ প্রধান স্থপতির মৃ'ত্যুর ফলে ম'সজিদ নির্মাণের কাজ থেমে যায়। মেহের বকস স্থানীয় কারিগরের সহায়তায় পুনরায় ম'সজিদ নির্মাণের কাজ শুরু করেন। কিন্তু স্থানীয় কারিগররা ম'সজিদের গম্বুজ নির্মাণে ব্যর্থ হন। ১৯১০ সালে মেহের বকস চৌধুরী মৃ'ত্যুবরণ করেন।


এরপর মেহের বকসের ছোট ভাই কয়েক বছর পর ম'সজিদটি নির্মাণের জন্য আবারও উদ্যোগ নেন। কিন্তু নির্মাণ কাজ সমাপ্ত না করে তিনিও মৃ'ত্যুবরণ করেন। ফলে ম'সজিদটি গম্বুজ ছাড়াই দাঁড়িয়ে থাকে। অবশেষে মেহের বকস চৌধুরীর ছে'লে ম'রহু'ম বসরত আলী চৌধুরীর কন্যা বাংলাদেশের বিশিষ্ট শিল্পপতি তসরিফা খাতুন ২০১০ সালে ইনস্টিটিউটের কারিগরি সহায়তায় বালিয়া ম'সজিদটির সংস্কার কাজ শুরু করে। একই সঙ্গে আর্কিটেক্ট সৈয়দ আবু সুফিয়ান কুশলের নকশায় নতুন ভাবে গম্বুজ নির্মাণ করা হয়।


জ্বীনের ম'সজিদ নামে পরিচিত ম'সজিদটি সমতল ভূমি হতে ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি উঁচু প্লাটফর্মের ওপর পূর্ব-পশ্চিমে ৬২ ফুট ৬ ইঞ্চি ও উত্তর-দক্ষিণে ৬৯ ফুট ২ ইঞ্চি আয়তাকার কমপ্লেক্স অবস্থিত। আয়তাকার কমপ্লেক্সটি সিঁড়িসহ প্রবেশপথ, খোলা চত্বর ও মূলভবন বা নামাজঘর এই তিন অংশে বিভক্ত। এর মধ্যে মূল ভবনটি পূর্ব-পশ্চিমে ২৫ ফুট ১১ ইঞ্চি প্রশস্থ। প্লাটফর্ম হতে ম'সজিদটির ছাদ ১৭ ফুট উঁচু। ম'সজিদের ছাঁদে একই সাইজের তিনটি গম্বুজ ও আটটি মিনার আছে। যার মধ্যে চার কোণের চারটি মিনার বড় এবং বাকি চারটি ছোট। ভিত্তিসহ পুরো ম'সজিদটিই চুন-সুরকির ম'র্টার এবং হাতে পোড়ানো ইট দিয়ে নির্মিত। ইটে কোনো কাজ না থাকলেও ম'সজিদের দেয়ালের বিভিন্ন স্থানে ইট কে'টে কলস, ঘণ্টা, ডিশ, বাটি, আমলকি, পদ্ম ইত্যাদি নকশা তৈরি করা হয়েছে।


এ ব্যাপারে ঠাকুরগাঁও জে'লা প্রশাসক মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমি এই ঐতিহাসিক বালিয়া ম'সজিদে গিয়েছিলাম। আসলেই ম'সজিদটি দেখতে অনেক সুন্দর। বিশেষ করে সেখানকার দেয়ালগুলোতে যে নকশা আঁকা আছে সেটি চ'মৎকার। আম'রা ঠাকুরগাঁও বার্ড ক্লাবের সঙ্গে মিলে একটি ডকুমেন্টারি তৈরি করছি। সেখানে ঠাকুরগাঁও জে'লার অনেক ঐতিহাসিক জিনিস আমা'র সকলের মাঝে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছি। সেই ডকুমেন্টারির মধ্যে আম'রা এই ম'সজিদটিও রেখেছি।’ তিনি আরও জানান, বালিয়া ম'সজিদের ব্যাপারে কোনো রকমের সহযোগিতার প্রয়োজন হলে জে'লা প্রশাসকের পক্ষ থেকে তা অবশ্যই করা হবে।

Post a Comment

Previous Post Next Post