জাহাঙ্গীর আলম মেয়র থাকবেন কি না জানালেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র ও গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমকে আজীবন বহিষ্কার করার পর তিনি মেয়র পদে থাকতে পারবেন কি না তার সঠিক কোনো জবাব দিতে পারেননি স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম।


শনিবার (২০ নভেম্বর) ঢাকার সোনারগাঁ হোটেলে ড্যাপ নিয়ে এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম। সে সময় তাকে জাহাঙ্গীরের বিষয়ে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মেয়র পদে থাকবে কি না, এ বিষয়টা আইন পর্যবেক্ষণ না করে আমার পক্ষে মন্তব্য করা সম্ভব নয়। আইন দেখে পরবর্তীতে এ ব্যাপারে মন্তব্য করা হবে। এখন মেয়র আছে। কতদিন থাকবে, সেটা আইন দ্বারা নিষ্পত্তি করা হবে।’

তবে দল থেকে বহিষ্কৃত হলে কী হবে, সে বিষয়ে স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইনে স্পষ্ট করে কিছু বলা নেই। তবে নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে মেয়রদের কেউ আদালতে দণ্ডিত হলে তাকে অপসারণের বিধান আইনে রয়েছে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে কটূক্তি করার দায়ে সাংগঠনিকভাবে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় জাহাঙ্গীর আলমকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৯ নভেম্বর) বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গণভবনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আওয়ামী লীগের বৈঠক সূত্রে জানা গেছে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সংখ্যা নিয়ে কটূক্তি করে দেওয়া জাহাঙ্গীর আলমের বক্তব্যসংবলিত একটি ভিডিও গত অক্টোবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়।

এ নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয় এবং মেয়রের পদত্যাগ ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে জাহাঙ্গীরকে বহিষ্কারের দাবিতে গাজীপুর মহানগরীর কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভ করেন দলীয় নেতা-কর্মীরা।

তবে মেয়র অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রাজনৈতিক একটি প্রতিপক্ষ অতি উৎসাহী হয়ে তার বক্তব্যের ভিডিও এডিটিংয়ের মাধ্যমে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে ভাইরাল করেছে। তিনি গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার।

পরে গত ৩ অক্টোবর দলের স্বার্থ পরিপন্থী কর্মকাণ্ড ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জাহাঙ্গীর আলমকে শোকজ করে আওয়ামী লীগ। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সই করা শোকজ নোটিশে ১৫ দিনের মধ্যে জাহাঙ্গীরকে এর জবাব দিতে বলা হয়।

প্রসঙ্গত, জাহাঙ্গীর আলম ২০০৯ সালের ২২ জানুয়ারি তৎকালীন গাজীপুর সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৩ সালে গাজীপুর সিটি করপোরেশন গঠন হলে নাগরিক কমিটির ব্যানারে আনারস প্রতীকে মেয়র প্রার্থী হন জাহাঙ্গীর।

নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় দলীয় প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে যান তিনি। এরপর ২০১৬ সালে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা মহানগরের প্রথম সাধারণ সম্পাদক মনোনিত করেন তাকে। পরবর্তীতে ১৮ সালের নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে মেয়র নির্বাচিত হন জাহাঙ্গীর।

Post a Comment

Previous Post Next Post