সিলেটে স্ত্রী'র দাবিতে কথিত স্বামীর বাড়ির সামনে দুই দিন ধরে অনশন করেছেন এক তরুণী। রেহেনা আক্তার নামে ওই তরুণীর দাবি সিলেট নগরীর কালিবাড়ির মো. আবু হানিফের ছে'লে মিছবাহুজ্জামান রুহিন তাকে বিয়ে করে ৭ মাস সংসার করেছেন। এখন স্ত্রী'র ম'র্যাদা দিয়ে ঘরে তুলছেন না তিনি।
শনিবার দুপুরে কালিবাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির সামনে রেহানা আক্তার বিভিন্ন দাবি সম্বলিত কাগজ হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। ‘স্ত্রী'র স্বীকৃতি না পেলে ম'রে যাব’, ‘রুহিন তুমি ঘরে নাও, স্ত্রী'র সম্মান দাও’, স্ত্রী'র অধিকার আদায়ে আম'রন অনশন’, ‘রুহিনের ঘরে যাবো, নইলে বিষ খাবো’-এমন দাবি লেখা কাগজ প্রদর্শন করছেন তিনি। তাকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছেন এলাকার লোকজনও।
রেহানা আক্তার জানান, তার বাড়ি চাঁদপুর জে'লার হাজিগঞ্জ থা'নার শিদনা গ্রামে। ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হয় রুহিনের সাথে। এরপর গড়ে ওঠে প্রে'মের স'ম্পর্ক। দীর্ঘদিন ধরে তাদের এই স'ম্পর্ক চলে আসছে। ৭ মাস আগে তারা কোর্ট ম্যারেজ করেন। এরপর রুহিন নারায়াণগঞ্জে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে তাকে রাখে। রুহিন ওই বাসায় গিয়ে থাকতেন। ৭ মাস সংসার করার পর হঠাৎ করে রুহিন তাকে স্ত্রী'র ম'র্যাদা দিয়ে ঘরে তুলতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর তিনি সিলেটের বিভিন্ন স্থানে বিচার চেয়ে ঘুরেছেন। রুহিনের পরিবারের পক্ষ থেকেও সমস্যা সমাধানের আশ্বা'স দেয়া হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা কথা রাখেননি। একপর্যায়ে তিনি আ'দালতে মা'মলা করেন।
রেহানা জানান, স্ত্রী'র ম'র্যাদার দাবিতে শুক্রবার থেকে তিনি অনশন করছেন। স্ত্রী'র ম'র্যাদা দিয়ে তাকে ঘরে না তুললে তিনি আত্মহননের পথ বেছে নেবেন বলেও হু'মকি দেন রেহানা।
এ ব্যাপারে জানতে মোবাইল ফোনে রুহিনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
সিলেট সিটি করপোরেশনের স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. ইলিয়াছুর রহমান জানান, ‘ওই মহিলা আমাদের কাছে এসেছিলেন বিচার চাইতে। আম'রা বলেছি-কাবিননামা বা উপযু'ক্ত প্রমাণ নিয়ে আসতে। এরপর তিনি চলে যান। আর আসেননি।’
মা'মলার ব্যাপারে জালালাবাদ থা'নার সহকারী উপ-পু'লিশ কমিশনার শফিকুর রহমান জানান, আ'দালতে মা'মলা দায়েরের পর পিবিআই থেকে রুহিনের বাড়ি-ঘরের ঠিকানা ও তার স্বভাব-চরিত্রের বিষয়ে ত'দন্ত করে রিপোর্ট পাঠাতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পরে আমি ত'দন্ত করে এ বিষয়ে পিবিআই’র কাছে রিপোর্ট প্রদান করেছি।’
