১৫ বস্ত্র কোম্পানির মুনাফায় উত্থান

 




 পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বস্ত্র খাতের ৫৬টি কোম্পানির মধ্যে এ পর্যন্ত ২৭টি কোম্পানি চলতি হিসাববছরের তৃতীয় প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ’২১) আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে ১৫টি কোম্পানির মুনাফায় উত্থান হয়েছে, ৮টির মুনাফায় পতন হয়েছে এবং ৪টির লোকসান কম-বেশ হয়েছে।


তবে তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ’২১) মুনাফায় উত্থানে থাকা ১৫টি কোম্পানির মধ্যে চলতি হিসাববছরের ৯ মাসে ১১টি কোম্পানির মুনাফায় ঊর্ধ্বগতি থাকলেও ৪টির মুনাফা কমেছে। নয় মাসে এই ৪টি কোম্পানি মুনাফার প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারেনি।


তবে বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনার থাবায় বস্ত্র খাত সবচেয়ে বেশি চাপে রয়েছে। এর মধ্যেও কোম্পানিগুলো মুনাফায় ঊর্ধ্বগতি দেখিয়েছে, এটা অনেক ইতিবাচক ও আশাব্যঞ্জক দিক।


তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ’২১) এবং হিসাববছরের ৯ মাসে (জুলাই’২০-মার্চ’২১) মুনাফায় উত্থানে থাকা ১১টি কোম্পানি হলো-আলহাজ্ব টেক্সটাইল, আনলিমা ইয়ার্ন, এপেক্স স্পিনিং, ড্রাগন স্যুয়েটার, এইচআর টেক্সটাইল, মালেক স্পিনিং, মতিন স্পিনিং, নিউ লাইন টেক্সটাইল, কুইনসাউথ টেক্সটাইল, রহিম টেক্সটাইল ও স্কয়ার টেক্সটাইল।


তৃতীয় প্রান্তিকে আয় বাড়লেও হিসাববছরের ৯ মাসে (জুলাই’২০-মার্চ’২১) আয় কমেছে ৪টি কোম্পানির। কোম্পানিগুলো হলো- আর্গন ডেনিম, ইভিন্স টেক্সটাইল (ইটিএল), জেনারেশন নেক্সট ও ভিএফএস থ্রেড লিমিটেড।


অন্যদিকে, তৃতীয় প্রান্তিকে আয় কমেছে এবং হিসাববছরের ৯ মাসেও (জুলাই’২০-মার্চ’২১) আয় কমেছে ৮টি কোম্পানির। কোম্পানিগুলো হলো- আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ, আলিফ ম্যানুফেকচারিং, এনভয় টেক্সটাইল, ফারইস্ট নিটিং, কাট্টালি টেক্সটাইল, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ ও সিমটেক্স লিমিটেড।


অপরদিকে, তৃতীয় প্রান্তিকে ও হিসাববছরের ৯ মাসে (জুলাই’২০-মার্চ’২১) লোকসানে রয়েছে ৪টি কোম্পানি। সেগুলো হলো- অলটেক্স, নূরানী টেক্সটাইল, দুলামিয়া কটন ও জাহিন টেক্সটাইল।


তৃতীয় প্রান্তিকে ও ৯ মাসের মুনাফায় ঊর্ধ্বগতি থাকা ১১ কোম্পানি:


আলহাজ্ব টেক্সটাইল: চলতি হিসাববছরের তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটি লোকসান থেকে মুনাফায় ফিরেছে। আলোচ্য প্রান্তিকে কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি মুনাফা করেছে ২০ পয়সা। আগের হিসাববছরের একই সময়ে লোকসান ছিল ১৩ পয়সা। চলতি হিসাববছরের তিন প্রান্তিকে ইপিএস হয়েছে ৩৮ পয়সা। আগের হিসাববছেরের তিন প্রান্তিকে লোকসান ছিল ৭৬ পয়সা।


আনলিমা ইয়ার্ন: তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটি লোকসান থেকে মুনাফায় ফিরেছে। আলোচ্য প্রান্তিকে শেয়ার প্রতি মুনাফা হয়েছে ৫ পয়সা। আগের বছরে লোকসান ছিল ১৩ পয়সা। তিন প্রান্তিকে ইপিএস হয়েছে ২২ পয়সা। আগের বছরের তিন প্রান্তিকে ইপিএস ছিল ১১ পয়সা।


এপেক্স স্পিনিং: তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৭৬ পয়সা। আগের বছরে ইপিএস ছিল ৭২ পয়সা। তিন প্রান্তিকে ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ৫১ পয়সা। আগের বছরের তিন প্রান্তিকে ইপিএস ছিল ২ টাকা ১৯ পয়সা।


ড্রাগন স্যুয়েটার: তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৩২ পয়সা। আগের বছরেও ইপিএস ছিল ৩২ পয়সা। তবে তিন প্রান্তিকে ইপিএস বেড়েছে। তিন প্রান্তিকে ইপিএস হয়েছে ৯২ পয়সা। আগের বছরের তিন প্রান্তিকে ইপিএস ছিল ৭১ পয়সা।


এইচআর টেক্সটাইল: তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৯৩ পয়সা। আগের বছরে ইপিএস ছিল ৪৩ পয়সা। তিন প্রান্তিকে ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৮৪ পয়সা। আগের বছরের তিন প্রান্তিকে ইপিএস ছিল ১ টাকা ৩১ পয়সা।


মালেক স্পিনিং: তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৯৯ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে লোকসান ছিল ৪৩ পয়সা। তিন প্রান্তিকে ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৯৮ পয়সা। আগের বছরের তিন প্রান্তিকে ইপিএস ছিল ২২ পয়সা।


মতিন স্পিনিং: তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৯২ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ৮৮ পয়সা। তিন প্রান্তিকে ইপিএস হয়েছে ৪ টাকা ৩ পয়সা। আগের বছরের তিন প্রান্তিকে ইপিএস ছিল ১ টাকা ৬৯ পয়সা।


নিউ লাইন টেক্সটাইল: তৃতীয় প্রান্তিকে ইপিএস হয়েছে ৪১ পয়সা। আগের বছরে ইপিএস ছিল ২৩ পয়সা। তিন প্রান্তিকে ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৩২ পয়সা। আগের বছরের তিন প্রান্তিকে ইপিএস ছিল ১ টাকা ২৮ পয়সা।


কুইনসাউথ টেক্সটাইল: তৃতীয় প্রান্তিকে ইপিএস হয়েছে ৩৫ পয়সা। আগের বছরে ইপিএস ছিল ২৬ পয়সা। তিন প্রান্তিকে ইপিএস হয়েছে ৮৯ পয়সা। আগের বছরের তিন প্রান্তিকে ইপিএস ছিল ৭৮ পয়সা।


রহিম টেক্সটাইল: তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটি বড় লোকসান থেকে মুনাফায় ফিরেছে। তৃতীয় প্রান্তিকে ইপিএস হয়েছে ৪৯ পয়সা। আগের বছরে লোকসান ছিল ৪ টাকা ১৫ পয়সা। তিন প্রান্তিকে ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৮৪ পয়সা। আগের বছরের তিন প্রান্তিকে ইপিএস ছিল ৭৩ পয়সা।


স্কয়ার টেক্সটাইল: তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৫ পয়সা। আগের বছরে ইপিএস ছিল ৩৫ পয়সা। তিন প্রান্তিকে ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৮৪ পয়সা। আগের বছরের তিন প্রান্তিকে ইপিএস ছিল ১ টাকা ১৯ পয়সা।


তৃতীয় প্রান্তিকে বাড়লেও ৯ মাসে মুনাফা কমেছে ৪টির:


আর্গন ডেনিম: তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৪৫ পয়সা। আগের বছরে ইপিএস ছিল ২৯ পয়সা। তবে ৯ মাসে কোম্পানিটির আয় কমেছে। ৯ মাসে ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৮ পয়সা। আগের বছেরের ৯ মাসে ইপিএস ছিল ১ টাকা ৬৭ পয়সা।


ইভিন্স টেক্সটাইল: তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১৬ পয়সা। আগের বছরে ইপিএস ছিল ৪ পয়সা। তবে ৯ মাসে কোম্পানিটি লোকসানে রয়েছে। তিন প্রান্তিকে লোকসান হয়েছে ১৪ পয়সা। আগের বছেরের ৯ মাসে ইপিএস ছিল ৩৪ পয়সা।


জেনারেশন নেক্সট: তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৩ পয়সা। আগের বছরে লোকসান ছিল ১২ পয়সা। তবে ৯ মাসে কোম্পানিটি লোকসানে রয়েছে। ৯ মাসে লোকসান হয়েছে ৩ পয়সা। আগের বছেরের ৯ মাসে ইপিএস ছিল ২৩ পয়সা।


ভিএফএস থ্রেড: তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৪১ পয়সা। আগের বছরে ইপিএস ছিল ৩৮ পয়সা। তবে ৯ মাসে কোম্পানিটির আয় কমেছে। ৯ মাসে ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ২৭ পয়সা। আগের বছেরের ৯ মাসে ইপিএস ছিল ১ টাকা ৩৯ পয়সা।


তৃতীয় প্রান্তিকে ও ৯ মাসে মুনাফা কমেছে ৮টির:


আলিফ ইন্ডাষ্ট্রিজ: তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৩৯ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ৫৫ পয়সা। তিন প্রান্তিকে বা ৯ মাসে ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৩৮ পয়সা। আগের বছরের তিন প্রান্তিকে বা ৯ মাসে ইপিএস ছিল ২ টাকা ১৬ পয়সা।


আলিফ ম্যানুফেকচারিং: তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১৬ পয়সা। আগের বছরে ইপিএস ছিল ২৩ পয়সা। ৯ মাসে ইপিএস হয়েছে ৩৯ পয়সা। আগের বছরের ৯ মাসে ইপিএস ছিল ৬৩ পয়সা।


এনভয় টেক্সটাইল: তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ২১ পয়সা। আগের বছরে ইপিএস ছিল ৯১ পয়সা। ৯ মাসে ইপিএস হয়েছে ৫৮ পয়সা। আগের বছরের ৯ মাসে ইপিএস ছিল ২ টাকা ৬ পয়সা।


ফারইস্ট নিটিং: তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ২০ পয়সা। আগের বছরে ইপিএস ছিল ২২ পয়সা। ৯ মাসে ইপিএস হয়েছে ৩৩ পয়সা। আগের বছরের ৯ মাসে ইপিএস ছিল ৩৪ পয়সা।


কাট্টলী টেক্সটাইল: তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ২৯ পয়সা। আগের বছরে ইপিএস ছিল ৪৬ পয়সা। ৯ মাসে ইপিএস হয়েছে ৯০ পয়সা। আগের বছরের ৯ মাসে ইপিএস ছিল ১ টাকা ৪০ পয়সা।


প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল: তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৯৭ পয়সা। আগের বছরে ইপিএস ছিল ১ টাকা ১৫ পয়সা। ৯ মাসে ইপিএস হয়েছে ৩ টাকা ৪০ পয়সা। আগের বছরের ৯ মাসে ইপিএস ছিল ৩ টাকা ৬৪ পয়সা।


শেফার্ড টেক্সটাইল: তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটি লোকসানে চলে গেছে। আলোচ্য প্রান্তিকে কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি লোকসান করেছে ২১ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ৮ পয়সা। ৯ মাসে লোকসান হয়েছে ৭৯ পয়সা। আগের বছরের ৯ মাসে মুনাফা ছিল ৪১ পয়সা।


সিম টেক্সটাইল: তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৬ পয়সা। আগের বছরে ইপিএস ছিল ২৪ পয়সা। ৯ মাসে ইপিএস হয়েছে ৭৬ পয়সা। আগের বছরের ৯ মাসে ইপিএস ছিল ১ টাকা ১৯ পয়সা।


লোকসানে রয়েছে ৪টি কোম্পানি:


অলটেক্স: তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে ১ টাক ৮৩ পয়সা। আগের বছরে লোকসান ছিল ১ টাকা ৩৬ পয়সা। ৯ মাসে কোম্পানিটি লোকসানে হয়েছে ৪ টাকা ১১ পয়সা। আগের বছরের ৯ মাসে লোকসান ছিল ৪ টাকা ২৫ পয়সা।


নূরানী টেক্সটাইল: তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে ২৮ পয়সা। আগের বছরে লোকসান ছিল ৬৯ পয়সা। ৯ মাসে কোম্পানিটি লোকসানে হয়েছে ৯৫ পয়সা। আগের বছরের ৯ মাসে লোকসান ছিল ৪২ পয়সা।


দুলামিয়া কটন: তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে ১৩ পয়সা। আগের বছরে লোকসান ছিল ১৫ পয়সা। ৯ মাসে কোম্পানিটি লোকসানে হয়েছে ৪৬ পয়সা। আগের বছরের ৯ মাসে লোকসান ছিল ৪৫ পয়সা।


জাহিন টেক্সটাইল: তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে ১ টাকা ২২ পয়সা। আগের বছরে লোকসান ছিল ১ টাকা ৩৩ পয়সা। ৯ মাসে কোম্পানিটি লোকসানে হয়েছে ২ টাকা ৫২ পয়সা। আগের বছরের ৯ মাসে লোকসান ছিল ২ টাকা ২২ পয়সা।


Post a Comment

Previous Post Next Post