করোনাভাইরাসের ছোবলে অর্থনীতির অধিকাংশ সেক্টরে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তবে এরমধ্যেও ভিন্ন ছবি পাওয়া গেল ওষুধ, সিগারেট ও মোবাইল ফোন খাতে। করোনার প্রভাবে এই তিন সেক্টর থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আদায় বেড়েছে আশাতীতভাবে।
এই তিন খাতে ব্যবসা ও মুনাফা বাড়ার কারণে রাজস্ব আদায়ে এমন ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) দেশের সিগারেট, ফার্মাসিউটিক্যালস এবং টেলিকম খাতে সোয়া নয় শতাংশ প্রবৃদ্ধির রাজস্ব আদায় করেছে এনবিআরের বৃহৎ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ)।
এনবিআর সূত্রে জানা যায়, মার্চ পর্যন্ত এলটিইউ (ভ্যাট) থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৩৬ হাজার ২০৯ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। আলোচ্য সময়ে এলটিইউ আগের অর্থবছরের তুলনায় ৩ হাজার ৪০ কোটি ৫২ লাখ টাকার বেশি ভ্যাট আদায় করেছে। অন্যদিকে শুধু মার্চ মাসেই এলটিইউ ইউনিটের ভ্যাট আদায়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৫ শতাংশ।
এনবিআরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের এনবিআরের বৃহৎ করদাতা ইউনিটের আওতায় ভ্যাট আদায় প্রবৃদ্ধির মধ্যে সিগারেট খাতের সর্বাধিক অবদান ছিল। শুধুমাত্র মার্চ মাসে সিগারেট কোম্পানিগুলো থেকে ভ্যাট আদায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। অন্যদিকে মোবাইল ফোন অপারেটরদের থেকেও রাজস্ব আদায় বেড়েছে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা
কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, মহামারিতে মোবাইল ফোনের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এছাড়া ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি অর্থ্যাৎ ওষুধ খাত থেকেও গত ৯ মাসে বেশি ভ্যাট পাওয়া গেছে।
জানতে চাইলে এলটিইউ’র কমিশনার ওয়াহিদা রহমান চৌধুরী সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, মহামারি সত্ত্বেও আমাদের ইউনিট থেকে বড় করদাতাদের কাছ থেকে ভ্যাট আদায়ের ঊর্ধ্বগতি বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছি। এটা আমাদের ইতিবাচক একটি বিষয়।
এনবিআরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা এ বিষয়ে বলেন, কোভিড মহামারি লোকজনকে বেশি বেশি ওষুধ ও সুরক্ষা সামগ্রী কিনতে বাধ্য করেছে। যার ফলে ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলোর আয় বেড়েছে, রাজস্বও বেশি আদায় হয়েছে। এছাড়া সরকারের কঠোর বিধিনিষেধের কারণে অনেকটা অবরুদ্ধ মানুষের ঘরে বসে মোবাইল ফোনে কথা বলা বৃদ্ধি কিংবা ইন্টারনেটের সাহায্যে ওয়েবিনার সভা ও ব্রাউজিং ইত্যাদি বেড়ে যাওয়ায় খরচ বেড়েছে সবার। যার প্রভাব রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রেও। তবে আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে, সিগারেটের ব্যবহার তুলনামূলক বেড়েছে। যদিও রাজস্বের হিসেবে ইতিবাচক, তারপরও এমন প্রবৃদ্ধি দেশ ও মানুষের জন্য মঙ্গলজনক নয় বলে মনে করি।
যদিও বাজেটে সিগারেটের ওপর আরোপিত সম্পূরক শুল্কের কারণেও সিগারেটের দাম বৃদ্ধি তামাক খাতে অধিক রাজস্ব আদায় করতে সহায়তা করেছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম দুই টাকা বৃদ্ধি পায়। যেখানে সম্পূরক শুল্ক ৫৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫৭ শতাংশ করা হয়েছিল।
অন্যদিকে মাঝারি স্তরের সিগারেটের ট্যাক্স এবং মূল্যস্তর অপরিবর্তিত ছিল। উচ্চ-স্তরের এবং প্রিমিয়াম মানের সিগারেটের দাম যথাক্রমে ৪ টাকা এবং ৫ টাকা বৃদ্ধি পায়।
উল্লেখ্য, ফার্মাসিউটিক্যাল খাতে পুঁজিবাজারে রয়েছে স্কয়ার, রেনেটা, বেক্সিকো ফার্মাসহ ৩১টি কোম্পানি; মোবাইল খাতে রয়েছে দেশের শীর্ষ দুই অপারেটর কোম্পানি-গ্রামীণফোন ও রবি এবং সিগারেট খাতে রয়েছে দেশের প্রধান কোম্পানি বৃটিশ অ্যামেরিকান ট্যোবাকো কোম্পানি।
