ভাইয়ের জীবন বাঁ'চাতে গভীর রাতে সাংবাদিকের করুণ আকুতি



বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের করো'না ইউনিটে ভর্তি আছেন কালের কণ্ঠের স্বাস্থ্য বিষয়ক সাংবাদিক আতাউর রহমান কাবুলের ভাই আহসান হাবীব বাবুল। চিকিৎসা ভালোই চলছিল কিন্তু ত্রুটিপূর্ণ হাই ফ্লো নেজাল ক্যানোলা মেশিনের কারণে তার ভাইয়ের জীবন বুধবার দিবাগত রাতে সংকটাপন্ন হয়ে যাচ্ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, আইসিইউ বিভাগের চেয়ারম্যান, ডিউটিরত স্টাফদের সহায়তা চেয়েও সারা পাননি তিনি। গভীর রাতে তিনি তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন ভ'য়ঙ্কর অ'ভিজ্ঞতার কথা। নিচে তার ফেসবুক স্ট্যাটাসটি হুবুহু তুলে ধ'রা হলো-

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি আমা'র ভাই আহসান হাবীব বাবুল সংকটাপন্ন! বঙ্গবন্ধু মেডিক্যালের কোভিড ইউনিটের ৬ তলায় পরপর তিনটি হাই ফ্লো নেজাল ক্যানোলা মেশিন বদল করা হলো তবুও কাজ হচ্ছে না। হাই ফ্লো ক্যানোলা চালু থাকা অবস্থায় অক্সিজেন সেচুরেশন ৯৫-৯৯% পর্যন্ত ছিল। একটি মেশিনেরও ক্যানোলা কাজ করছে না দীর্ঘক্ষণ ধরে। ট্যাপ দিয়ে বাঁ'ধা (ছবিতে দেখু'ন)। অনেকগুলোতে বাতাস লিক করছে। ক্যানোলার পাইপ দিয়ে গরম বাতাস এবং গরম পানি বের হচ্ছে একটু পরপর। রোগী এটা কোনোভাবেই নাকে রাখতে পারছে না।

মেশিনের সমস্যার কারণে অক্সিজেন সেচুরেশন ৫০% এর নিচে নেমে এসেছিল। ভাইটি আমা'র অস্থির আচরণ করছিলো, বুকে নাকি ব্যথা হচ্ছিল, একটু পর পর পানি খাচ্ছিলো, ছটফট করছিলো। আমাদের তো কা'ন্না কাটি অবস্থা। ওয়ার্ড বয় জানালো, মেশিনের ইঞ্জিনিয়ারকে কল করা হয়েছে সে নাকি আসবে আগামীকাল। খোঁজ নিয়ে দেখি একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার পর্যন্ত নেই ছয় তলায় ভিআইপি ব্লকে। একটা সিলিন্ডার কোথা থেকে যেন ম্যানেজ করে আনার কিছুক্ষণ পরই অক্সিজেন শেষ হয়ে গেল। ওয়ার্ড বয়কে বলাতে জানালো, আর কোনো সিলিন্ডার নেই। কি ভয়ঙ্কর অবস্থা! অথচ আমা'র ভাই পুরো ঝুঁ'কির মধ্যে, বাকি রোগীদের কি অবস্থা জানি না। এই মুহূর্তে আর দুটো রোগীর হাই ফ্লো অক্সিজেন দরকার হলে কি অবস্থা দাঁড়াবে?

তখন রাত আড়াইটার মতো বাজে। আমি বারডেমসহ বিভিন্ন জায়গা ঘুরে আসলাম কোথাও একটি ক্যানোলা কিনতে পেলাম না। ডিউটি ডাক্তার নূর মোহাম্ম'দ যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন। চিকিৎসা নিয়ে কোনো কমপ্লেইন নেই।তিনি আমাকে বারবার খোঁজ নিতে বলছেন আইসিইউতে সিট আছে কিনা? নচেৎ প্রাইভেটে অন্য কোন আইসিইউ ম্যানেজ করতে বললেন। কিন্তু আমা'র কাছে এমন কোন সন্ধান সে মুহূর্তে নেই। তাছাড়া একটা বড় ঝুঁ'কি নিতে চাচ্ছিলাম না।

কিন্তু দেশের শীর্ষ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের করো'না ইউনিটে একটি হাই ফ্লো নেজাল ক্যানোলা মেশিন ঠিক নেই, একটি ক্যানোলা নেই, ক্যানোলা দিয়ে বাতাস লিক করে, সেই লিক আ'ট'কাতে আবার টেপ দিয়ে মোড়ানো- এটা অ'বাক করার মতো বিষয়! তাহলে কি সরকার এখানে কোন টাকা পয়সা বিনিয়োগ করছে না?
ওয়ার্ড বয় জাকিরের কারণে কিছুক্ষণ আগে আমা'র ভাইয়ের জীবন সংকটাপন্ন হয়ে যাচ্ছিলো। তিনি চিকিৎসক, নার্সের উপস্থিতি ছাড়াই একটি মেশিন খুলে আরেকটি লাগাতে গিয়ে অক্সিজেন মা'রাত্মক ফল করতেছিল। তিনি যে মেশিনেই হাত দেন সেটাই বন্ধ হয়ে যায়। দায়িত্বরত চিকিৎসক তার কর্মকা'ণ্ড দেখে অ'বাক। আমাকে বললেন, আর একটু সময় গেলেই আপনার রোগী মা'রা যেত। তিন/চার ঘণ্টা থেকে লড়াই চলছে কিন্তু একটা সিস্টারেরও দেখা নেই।

ভিসি শারফুদ্দিন স্যারকে অনেকবার ফোন দিলাম তিনি ফোন ধরছেন না। আইসিইউর দায়িত্বে থাকা প্রফেসর আখতারুজ্জামান স্যারকে রিকুয়েস্ট করলাম সেখানেও সিট নেই বলতেছেন। এখানকার রোগী যদি এখানকার আইসিইউতে সিট না পায় তাহলে কি উপায়? ইতিমধ্যে দুজন রোগী অন্যত্র চলে গেছেন বলে জানলাম।
আমা'র এখন কি করনীয় বুঝতেছি না। রোগের কারণে নাকি সিস্টেমের কারণে আমা'র ভাইকে হারাবো? কোনো বেসরকারি হাসপাতা'লে কেন গেলাম না আমা'র ভাই সেটা জিজ্ঞেস করছে এই অস্থির অবস্থার মধ্যেও। সংশ্লিষ্টদের বলছি, দ্রুত আইসিইউতে একটি সিট ম্যানেজ করুন প্লিজ।

দেশের শীর্ষ মেডিক্যালে মেশিন ঠিক নেই, একটি ক্যানোলা নেই, অক্সিজেনের পাইপ লিক করা, ক্যানালো ট্যাপ দিয়ে মোড়া এবং বাতাস লিক করে এটা অ'বাক করা বিষয়।

গত রাত্রের বিভীষিকাময় পরিস্থিতির ঘটনা সত্য কিনা তা সংশ্লিষ্টদের ত'দন্ত করে দেখার অনুরোধ করছি।

Post a Comment

Previous Post Next Post