পুঁজিবাজার বড় পতনের পর ৯ কার্যদিবস ধরে চিত্র কিছুটা বদলেছে। আস্থা ফিরতে শুরু করছে বিনিয়োগকারীদের। সূচকের পাশাপাশি বাড়ছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারদর। পাশাপাশি লকডাউনের মধ্যে লেনদেন রয়েছে বেশ সন্তোষজনক অবস্থায়। এতে বদলেছে বিনিয়োগকারীদের মানসিক অবস্থা। পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতার আভাস দিচ্ছে, এমনটিই ভাবছেন তারা। ফলে দুর্বল কোম্পানি ছেড়ে মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানির শেয়ারে ফিরছেন তারা।
সাম্প্রতিক বাজারচিত্রে দেখা যায়, পুঁজিবাজারে ভালো মানের প্রতিষ্ঠানের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। বাজার ভালো থাকায় তারা এখন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ মৌলভিত্তিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করছেন। আর বিনিয়োগকারীরা ভালো মানের প্রতিষ্ঠানের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠায় দুর্বল ও ‘জেড’ ক্যাটেগরির কোম্পানির শেয়ারের চাহিদা কমেছে।
আজ সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস রোববার পুঁজিবাজারের সূচক ও লেনদেনে বড় উত্থান হয়েছে। এদিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনে অংশ নেওয়া ৫৬ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) একই চিত্রে লেনদেন শেষ হয়েছে। ডিএসই ও সিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এদিন ডিএসইতে এক হাজার ১৮৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আজ ডিএসইতে আগের দিন থেকে ৩০৫ কোটি ১০ লাখ টাকা বেশি লেনদেন হয়েছে। বৃহস্পতিবার লেনদেন হয়েছিল ৮৮৩ কোটি ২৯ লাখ টাকার। আজ ডিএসই প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স ৬৩ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৪৯৮ পয়েন্টে। অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই৩০ সূচক ১৮ পয়েন্ট বেড়েছে এবং ডিএসইএস বা শরীয়াহ সূচক ৩০ পয়েন্ট বেড়েছে। ডিএসইতে আজ মোট ৩৫৭টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ২০১টির, দর কমেছে ৭৮টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৭৮টি কোম্পানির।
অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ১৮৪ পয়েন্ট। সূচকটি ১৫ হাজার ৯০৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে। সিএসইতে লেনদেন হয়েছে কোটি লাখ টাকার শেয়ার। সিএসইতে মোট ২৩৬টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৩৮টির, দর কমেছে ৬১টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৭টির।
এ প্রসঙ্গে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, ‘ঊর্ধ্বমুখী পুৃঁজিবাজারে সব সময়ই কিছু লোক সুবিধা নিতে চায়। তারা এমনভাবে বিনিয়োগকারীদের ফাঁদে ফেলে যে, তারা বিষয়টি বুঝতে পারেন না, যে কারণে তারা অতিমূল্যায়িত শেয়ারে বিনিয়োগ করতে দুবার ভাবেন না। বেশিরভাগ সময় তাদের ভোগান্তির শিকার হতে হয়। তাই এ বিষয়টি মাথায় রেখেই বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত।’ তিনি আরও বলেন, বিনিয়োগকারীরা ভালো মানের শেয়ারে ফিরে এলে তা বাজার ও বিনিয়োগকারী সবার জন্য ভালো।
একই প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, সাধারণত দুর্বল কোম্পানির শেয়ার নিয়ে কারসাজির ঘটনা বেশি ঘটে। এতে জড়িত থাকে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। তারা নানাভাবে এসব শেয়ারের দর বাড়াতে চান। আর একসময় শেয়ারগুলো চড়া দরে অন্যের কাছে বিক্রি করে বাজার থেকে বেরিয়ে যান। তাই এসব ঝুঁকি এড়াতে ভালো কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ নিরাপদ।
সূএ: দেশ প্রতিক্ষণ
