নানা আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। গত বছরের ১৫ নভেম্বর কমিটি ঘোষণার ৫ মাসের মধ্যেই ভেঙে দেওয়া হলো এই কমিটি। এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। কেউ বলছেন, হেফাজতে ইসলামের নেতারা জনসভা-ওয়াজ মাহফিলে রাজা উজিড় মারার কথা বললেও সরকারের ধর-পাকড়ে শেষ পর্যন্ত পিছু হটেছেন। কেউ বলছেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আপাতত কিছুদিন চুপচাপ থেকে পরিস্থিতি সামাল দিয়ে তারা আবারও সক্রিয় হবেন রাজনীতিতে। যেমনটি ঘটেছিল ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে সহিংস ঘটনাপ্রবাহের পর।
মূলত ৩ টি কারণে হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। প্রথমত: গ্রেফতার, মামলা ও ধরপাকড় এড়াতে। দ্বিতীয়ত: চাপে পড়ে অনেক নেতা পদত্যাগের ইঙ্গিত দিয়েছেন। দলে ভাঙন ঠেকাতে জরুরিভিত্তিতে কমিটি বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন হেফাজতের শীর্ষ নেতারা। তৃতীয়ত: কওমী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনা করে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরকে কেন্দ্র করে হেফাজতের বিক্ষোভে সহিংস ঘটনায় ১৮ জন নিহত হন। এরপর সারাদেশে হেফাজত নেতাদের নামে মামলা হয়। ধরপাকড় শুরু হয় দেশব্যাপী। এ পর্যন্ত হেফাজতের সদ্য বিলুপ্ত হওয়া কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর কমিটির অন্তত দুই ডজন নেতাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার নেতাদের মধ্যে রয়েছেন-সংগঠনটির বিলুপ্ত কমিটির শীর্ষস্থানীয় তিন নেতা আহমদ আবদুল কাদের, জোয়ায়েদ আল হাবীব ও মামুনুল হক। যুগ্ম মহাসচিব-সহকারী মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদকসহ সম্পাদকীয় পর্যায়ের বহু নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের রিমান্ডে নেওয়া হচ্ছে। দেশব্যাপী হেফাজত নেতাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলে সংগঠনটির অভিযোগ। গ্রেফতার নেতাদের পুরোনো মামলায় গ্রেফতার দেখানো হচ্ছে।