প্রেমিকার জন্য ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে জাবি ছাত্রের আত্মহত্যা

 


জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে সেতু থেকে লাফ দিয়ে করেন আত্মহত্যা। এটা মঙ্গলবার দুপুরের ঘটনা।


ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি দুপুর ইমেজ বুধবার তার মরদেহ উদ্ধার করে।


 বাহাদুর মিয়ার ছেলে ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র বিকাশ ইসলামের সঙ্গে এক মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি তার সঙ্গে বিকাশের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। বিকাশ অনেক চেষ্টা করেও তাদের প্রেমের সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করতে পারেনি।


এই ঘটনায় হতাশ হয় বিকাশ একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস দেন তার ফেসবুকে।এতে তিনি লেখেন- ‘পৃথিবীতে কেউ কারও নয়, আমারও কেউ নেই। তাই তুমি যদি ফিরে না আস তাহলে আমি আজই বংশী সেতু থেকে লাফিয়ে নদীতে পড়ে আত্মহত্যা করব’।


এই স্ট্যাটাস দেওয়ার পরেও তার প্রেমিকা কোনো সারা না দেওয়াতে হতাশ হয়ে তিনি সেতু থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে জানা যায়।


পরবর্তীতে বুধবার ডুবুরি দল তার মরদেহ উদ্ধার করে। বিকাশের মৃত্যুর খবর শুনে তার পরিবার গভীর শোকে আসন্ন হয়ে যায়। কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে গোটা পরিবার।


ওই ছাত্রের পিতা মো. বাহাদুর জানান, আমার ছেলে একজন মেয়েকে নাকি ভালবাসত। ইহা আমরা কেউই জানতাম না। তার মৃত্যুর পর বিষয়টি ফাঁস হয়েছে। আমার ছেলের সঙ্গে ওই মেয়ের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। আমার ছেলে তা মিটমাট করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। পরে ফেসবুকে স্ট্যাটাস লিখে বংশী সেতু থেকে লাফ দিয়ে নদীতে পড়ে আত্মহত্যা করে। দুদিন খোঁজাখুঁজির পর তার মরদেহ বুধবার বিকালে উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদল। ছেলে হারিয়ে আমাদের বেঁচে থাকায় এখন বৃথা।


ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তা মো. আব্দুল বাছেত মিয়া জানান, সাভার ও ধামরাই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের চারটি ইউনিট উদ্ধার কাজ চালিয়ে লাশ উদ্ধার করে।


কুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাবু কালিপদ সরকার বলেন, এমন পাগলামি কখনও দেখিনি। ওই ছাত্র প্রেমিকার সাড়া না পেয়ে নিজের জীবন নিজেই নিভিয়ে দিল। তাও আবার ফেসবুকে ঘোষণা দিয়ে। ছেলেটি অনেক ভাল ও মেধাবী ছিল। তার শোকে পরিবারের সদস্যরা হতবিহব্বল হয়ে পড়েছে।

Post a Comment

Previous Post Next Post