মারা গেলেন ক্যাসেট টেপের আবিস্কারক

 


নেদারল্যান্ডসের সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, গত ৬ মা'র্চ দেশটির ব্র্যব্যান্ট প্রদেশের ডুজে'ল শহরের নিজবাড়িতে মা'রা যান ওটেনস। তার বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর।
জানা যায়, প্রকৌশলী ল্যু ওটেনস ১৯৫২ সালে ডাচ্ ইলেকট্রনিক পণ্য তৈরির প্রতিষ্ঠান ফিলিপসে যোগ দেন। আট বছরের মা'থায় নিযু'ক্ত হন প্রতিষ্ঠানটির সদ্য চালু হওয়া পণ্য উন্নয়ন বিভাগের প্রধান হিসেবে।
এর মাত্র এক বছর পরেই ওটেনস ও তার দল বিশ্বের প্রথম পোর্টেবল (সহ'জে বহনযোগ্য) টেপ রেকর্ডার আবিষ্কার করেন। এটি সেসময় ১০ লাখেরও বেশি পিস বিক্রি হয়েছিল।
দুই বছর পর এরচেয়েও বড় বিপ্লব ঘটান ল্যু ওটেনস। পুরোনো রিল-টু-রিল টেপের জায়গায় আবিষ্কার করেন ক্যাসেট টেপ।
এ বিষয়ে তার বক্তব্য, ‘এটা সহ'জ- আমি ভা'রী, ব্যবহারপ্রতিকূল রিল-টু-রিল সিস্টেমে বির'ক্ত হয়ে গেছিলাম।’
ওটেনস সিদ্ধান্ত নেন, নতুন বস্তুটি এত ছোট হতে হবে, যা তার জ্যাকে'টের পকে'টে রাখা যাবে। বিষয়টি বুঝতে সুবিধার জন্য কাঠের একটি মডেলও তৈরি করেন তিনি।
১৯৬৩ সালে একটি বৈদ্যুতিক উপকরণ মেলায় প্রথমবারের মতো সামনে আনা হয় প্লাস্টিক কাঠামোয় তৈরি ক্যাসেট টেপ। এর স্লোগান ছিল ‘সিগারেট প্যাকে'টের চেয়েও ছোট!’
শিগগিরই টেপটির অনুকরণ বের করে ফেলে জা'পানিরা। তবে জা'পানি প্রতিষ্ঠান সনির সঙ্গে ফিলিপসের নকশা ব্যবহার করে মানসম্পন্ন ক্যাসেট তৈরির চুক্তি করেন ল্যু ওটেনস। বাজারে ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এটি সাড়া ফেলে গোটা বিশ্বে। ক্যাসেটটি ১০০ বিলিয়নের বেশি পিস বিক্রি হয়েছিল সেসময়।
এরপর কম্প্যাক্ট ডিস্ক (সিডি) তৈরিতে হাত দেন ওটেনস। সনি-ফিলিপসের যৌথ উদ্যোগে প্রস্তুত এই পণ্যটি বিক্রি হয় ২০০ বিলিয়ন পিসেরও বেশি।
১৯৮৬ সালে কর্মজীবন থেকে অবসর নেন ল্যু ওটেনস। তবে নিজের আবিষ্কারগুলো স'ম্পর্কে প্রায়ই প্রশ্ন করা হতো তাকে।
এক সাক্ষাৎকারে ডাচ আবিষ্কারককে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, কোটি কোটি মানুষের কাছে সুর-সংগীত সহ'জলভ্য করায় অবদান রাখায় গর্ববোধ করেন কি না?
তার জবাব ছিল সহ'জ- ‘না, আমা'র কোনও গর্ব নেই। কারণ, এর সবই ছিল দলীয় প্রচেষ্টা।’
সূত্র: ডাচ নিউজ

 

Post a Comment

Previous Post Next Post