বিয়ের প্রলোভনে শিক্ষার্থীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক। ৪ বছর প্রেমের সম্পর্কে জন্ম নিল শিশুকন্যা। ফুটফুটে নিষ্পাপ শিশুটি হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে মিটিমিটি করে হাসছে। শিশুটি জন্ম নিয়েছে এক দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীর গর্ভে।
রোববার রাত ৮টার দিকে সিরাজগঞ্জ শহরের নিউ কমিউনিটি হাসপাতালে সিজারের মাধ্যমে কন্যাশিশুটি জন্মগ্রহণ করে। এ ঘটনার পর থেকেই শিক্ষার্থীর প্রেমিক ফেরদৌস পলাতক রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার কালিয়া হরিপুর ইউনিয়নের চরবনবাড়িয়া গ্রামের তুজাম শেখের ছেলে ফেরদৌস শেখের (১৮) সঙ্গে ১০ম শ্রেণির ছাত্রীর প্রায় ৪ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিল। একপর্যায়ে মেয়েটির সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক হলে ওই ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে।
পরিবারের লোকজন বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি। শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় পরিবারের লোকজন দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে ভর্তি করার পরামর্শ দেন। ভর্তি করার পর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দ্রুত তাকে সিজার করাতে হবে বলে চিকিৎসক জানান। তার পরামর্শে রোববার রাতে সিজার করা হয়।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর বাবা জানান, আমার মেয়ে স্থানীয় একটি স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী। মেয়ের সঙ্গে ফেরদৌসের প্রেমের সম্পর্ক ছিল তা আমরা জানতাম না। এমনকি মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা হয়েছে বুঝতেও পারিনি। আমরা মনে করেছিলাম পেটে অন্য কোনো সমস্যা হয়েছে। তাই অসুস্থ হওয়ার পরে হাসপাতালে নিয়ে আসি। পরীক্ষা-নিরীক্ষার করার পর জানতে পারি মেয়ে অন্তঃসত্ত্বা এবং দ্রুত সিজার করাতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যানকে অবগত করেছি। তিনি সুষ্ঠু বিচার করবেন বলে জানান।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ফেরদৌসের মোবাইলে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।
হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক আব্দুল আজিজ বলেন, রাতে মেয়েটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মেয়েটি প্রসব বেদনায় ছটফট করছিল। পরে রোববার রাত ৮টার দিকে সিজারের মাধ্যমে কন্যাসন্তানের জন্ম হয়।
এ বিষয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান আব্দুস সবুর বলেন, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। আমি বিষয়টি শোনার পর ওই ছেলের পরিবারকে ডেকেছি। দুই পক্ষ বসে মীমাংসা করা হবে বলে তিনি জানান।