চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের লাশকাটাঘরে মৃত নারীর সঙ্গে ‘বিকৃত যৌনাচারের’ দায়ে গ্রেফতার হওয়া সেলিম দুই যুগের বেশি সময় পাহারাদার হিসাবে দায়িত্ব পালন করে আসছিল সেখানে। তবে এ ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, সেলিম চমেক হাসপাতালের অস্থায়ী কিংবা স্থায়ী কোনো কর্মচারী নয়। তাহলে দীর্ঘদিন ধরে এমন একটি স্পর্শকাতর স্থানে কেমন করে দায়িত্ব পালন করছিল সে? আর কাদের ছত্রছায়ায় ছিল? এ প্রশ্ন এখন সবার মুখে।
জানা যায়, চমেক হাসপাতালের লাশকাটাঘরের মূল দায়িত্বে ছিল পরিচ্ছন্নতাকর্মী রতন কুমার মালি। তার অধীনে পাহারাদার হিসাবে দায়িত্ব পালন করত সেলিম ও মধু নামের দুই (বেসরকারি) ব্যক্তি। তারাই লাশ পাহারা দেওয়ার নামে নির্দিষ্ট হারে চাঁদা আদায় করত। স্থায়ী কর্মচারী রতন কুমার কোনো দায়িত্ব পালন করত না। তার অধীনস্থ ব্যক্তিদের কাছ থেকে লাশকাটাঘরের চাঁদার টাকার ভাগ নিত মাসে মাসে। লাশকাটা ঘরকেন্দ্রিক প্রতিমাসে দুই-তিন লাখ টাকা চাঁদাবাজি হতো।
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, পাহারাদাররা দীর্ঘদিন ধরে স্বজনদের কাছ থেকে টাকা আদায়সহ নানা অপকর্ম করে আসছিল। প্রতিটি লাশের পাহারাদার হিসাবে স্বজনদের কাছ থেকে আদায় করত দেড় থেকে দুই হাজার টাকা। আর এই টাকার ভাগ পেত রতনসহ হাসপাতালের দুই ওয়ার্ড মাস্টার (রাজিব কুমার দে ও মো. কামরুজ্জামান)। টাকার ভাগ দিতে হতো চমেক হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা পুলিশকেও। নারী লাশের সঙ্গে বিকৃত যৌনাচারের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া সেলিমকে জিজ্ঞাসাবাদে এসব বিষয় ওঠে আসে। আর এ ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে চমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও। বুধবার সকালে সেই লাশকাটাঘরে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে জরুরি বিভাগের ভেতরে কাচঘেরা একটি কক্ষে লাশ রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অপরদিকে গোপনে এ বিষয়ে তদন্ত করছে চমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
সূত্র জানায়, চমেক হাসপাতালে নেওয়া যেসব লাশের ময়নাতদন্ত হয়, তা প্রাথমিকভাবে রাখা হয় লাশকাটাঘরে। সেখানে প্রথমে পুলিশের পক্ষ থেকে সুরতহাল করা হয়। এরপর ওই লাশটিকে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়ে দেওয়া হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধীনে থাকা মর্গে। আর সাময়িক সময়ের জন্য এই লাশকাটাঘরে থাকা মৃত নারীদের সঙ্গে যৌনাচার করত পাহারাদার সেলিম। দীর্ঘ তদন্তের পর এ বিষয়ে নিশ্চিত হয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি। সোমবার বিকৃত যৌনাচারের দায়ে চমেক হাসপাতাল এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় সেলিমকে। এ ঘটনায় সিআইডির এসআই কৃঞ্চ কমল ভৌমিক বাদী হয়ে পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেছেন। মামলায় সেলিমকে তিন দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সিআইডি। এর আগে ২০১৭ সালে পাঁচলাইশ থানায় দায়ের হওয়া সংঘবদ্ধ ধর্ষণের একটি মামলায় আসামি ছিল সেলিম। ওই মামলায় গ্রেফতার হয়ে দীর্ঘদিন জেলেও ছিল।
চমেক হাসপাতাল পুলিশ বক্সের ইনচার্জ এসআই নুরুল আলম আশিক বলেন, ‘আমি পাঁচলাইশ থানায় যোগ দেওয়ার পর থেকে প্রায় দুই বছর সেলিমকে লাশকাটাঘরের পাহারাদার হিসাবে জানি। পুলিশ বক্সের দায়িত্ব পালন করতে এসে সেভাবেই দেখছি। এ বিষয়ে ওয়ার্ড মাস্টার ভালো বলতে পারবেন। তবে টাকাপয়সা নেওয়ার এমন কোনো অভিযোগ সত্য নয়।’