স্ত্রীকে টুকরো টুকরো করে ফ্রিজে রাখে রাসেল

 


ফতুল্লার মাসদাইর বাড়ৈভোগ এলাকার ফারিয়া গার্মেন্টসের সামনের একটি ডোবা থেকে দেহবিহীন নারীর মাথা উদ্ধারের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ওই নারীর নাম তানজিনা। পরকীয়া সন্দেহে তাকে গলা কেটে হত্যার পর টুকরো টুকরো করে ফ্রিজে রাখেন স্বামী রাসেল।


তানজিনা রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানার চিথলী গ্রামের আ. জলিলের মেয়ে। রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানার এনায়েতপুর গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে রাসেল মিয়ার সঙ্গে তানজিনার প্রেমের সম্পর্কে বিয়ে হয়েছিল। তারা স্বামী-স্ত্রী ফতুল্লার পশ্চিম দেওভোগ আদর্শনগর রঙ্গিলা রোডে নোয়াব আলীর বাড়ির তৃতীয় ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন।


আর এ বাসায় তানজিনাকে পরকীয়ার সন্দেহ করে তার স্বামী রাসেল জবাই করে হত্যা শেষে টুকরো টুকরো করে প্রথমে ফ্রিজে রাখে। পরে পলিথিনে ভরে বাসার ছাদ থেকে দেহের অংশ ময়লা আবর্জনায় ফেলে দেয়। 


এ তথ্য নিশ্চিত করে বৃহস্পতিবার বিকালে মাসদাইর এলাকায় ঘটনাস্থলের কাছে প্রেস ব্রিফিং করেন নারায়ণগঞ্জ পিবিআই পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম।


তিনি বলেন, রাসেল তার স্ত্রীর মাথা থেকে দেহ কয়েক টুকরো করে ঘরের ফ্রিজিং সংরক্ষণ করে। আর সেই টুকরো করা দেহের অংশ পলিথিন ব্যাগে ভরে বাসার ছাদ থেকে পাশের ডোবায় নিক্ষেপ করে। এভাবে দেহের পুরো অংশ ফেলে দেয়।


তিনি বলেন, মাথাটি একটি পলিথিনে ভরে সেটি মাসদাইর বাড়ৈভোগ এলাকার ফারিয়া গার্মেন্টসের সামনের ডোবায় ফেলে দেয়।


২০২১ সালে ৫ এপ্রিল ওই ডোবা থেকে অজ্ঞাতপরিচয়ে তানজিনার দেহবিহীন মাথা উদ্ধার করে পুলিশ। মাথা উদ্ধারের ৪-৫ দিন আগে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তের বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ মামলা দায়ের করেন। এ মামলা পিবিআই তদন্ত পেয়ে রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু করেন।


মনিরুল ইসলাম বলেন, রংপুরের গ্রামের বাড়ি থেকে রাসেলকে গ্রেফতারের পর জানা যায় মাথাটি যে ডোবায় পাওয়া গেছে সেখানেই দেহের কয়েক টুকরো ফেলে দেওয়া হয়েছে। এতে গতরাত থেকে এখনো সেই ডোবায় সেচ মেশিন দিয়ে পানি সরানোর চেষ্টা চলছে। এর মধ্যে ডোবা থেকে হাত, পা ও শরীরের বিভিন্ন অংশের হাড় উদ্ধার করা হয়েছে।


তিনি বলেন, যে বঁটি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে সেই বটি ও লাশের টুকরো রাখা ফ্রিজ জব্দ করা হয়েছে। হত্যার পর তানজিনার ব্যবহৃত মোবাইলটি রাসেল তার বোন আশাকে দিয়ে দেয়। সেই মোবাইলটিও জব্দ করা হয়েছে। ঘটনার পর পালিয়ে থেকে রাসেল এ পর্যন্ত ২০টি মোবাইল ও ২৫টি সিম ব্যবহার করেছে।

Post a Comment

Previous Post Next Post