সাধু বাবার কথায় মাথায় পেরেক ঢুকালেন অন্তঃসত্ত্বা মা! অতঃপর

 


পর পর তিনবার মেয়ে সন্তানের মা হয়েছেন তিনি। একটি ছেলে সন্তানের আশায় চতুর্থবারের মতো গর্ভধারণ করেছেন। মনে ভয়, এবারও যদি ছেলে হয়। তাই ছেলে সন্তানের আশায় শরণ নিলেন এক সাধুর। 


সেই সাধু শুধু আশ্বাস নয়, দিলেন পুত্র সন্তানের গ্যারান্টি। তবে সেই জন্য তাকে গিয়ে হবে কঠিন পরীক্ষা। নিজের মাথায় ঢোকাতে হবে পেরেক। পুত্র সন্তানের আশায় বেপরোয়া মা ভয়ংকর সেই কাজটাই করেছেন।


পাকিস্তানের পেশোয়ারে এই লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে বলে বলে বার্তা সংস্থা এএফপি বুধবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে। 


হায়দার খান নামে  চিকিৎসক বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, ওই নারী নিজে নিজেই একটি প্লায়ার দিয়ে পেরেকটি বের করার চেষ্টা করেছিলেন। ব্যর্থ হয়ে পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর পেশোয়ারের একটি হাসপাতালে যান তিনি।


ওই নারীর পুরোপুরি জ্ঞান থাকলেও তার তীব্র ব্যথায় কাতর ছিলেন বলে জানিয়েছেন হায়দার খান। 


তিন সন্তানের মা ও নারীর গর্ভস্থ সন্তানটিও মেয়ে বলেও জানান তিনি। 


এক্স-রে পরীক্ষায় দেখা গেছে, দুই ইঞ্চি পেরেকটি ওই নারীর কপালের উপরের অংশে ছিদ্র করেছে। তবে সৌভাগ্যবশত তার মস্তিষ্কে কোনো আঘাত লাগেনি। 


পেরেকটি কপালে ঢোকাতে হ্যামার কিংবা এ রকম ভারি কিছু ব্যবহার করা হয়েছে বলে হায়দার খান জানিয়েছেন। 


ওই নারী প্রথমে হাসপাতালের কর্মীদের বলেছিলেন, ওই সাধুর পরামর্শে তিনি নিজেই নিজের মাথায় পেরেক  ‍ঢুকিয়েছেন। কিন্তু পরে অবশ্য জানান, ওই সাধুই তার মাথায় পেরেক ঢুকিয়ে দেন।


এদিকে পেরেক অপসারণের পর পরই হাসপাতাল ছেড়ে ওই নারী চলে যান। পুলিশ সাধুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই নারীকে খুঁজছেন।


এ ব্যাপারে পেশোয়ারের পুলিশ প্রধান আব্বাস আহসান এএফপিকে বলেন, আমরা হাসপাতাল থেকে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছি এবং আশা করছি শীঘ্রই ওই নারীর কাছে পৌঁছাতে পারব।


দক্ষিণ এশিয়ায় মনে করা হয় পুত্র সন্তান মা-বাবাকে আর্থিক নিরাপত্তা দিতে পারে। অন্যদিকে কন্যাসন্তানকে কেবল বোঝা মনে করা হয়।

Post a Comment

Previous Post Next Post