দুই হাজার কোটি টাকা দিতে হচ্ছে না বিএটিবিসিকে


 ২০১৩ সালের ২৩ নভেম্বর এনবিআর তাদের কাছ থেকে ১ হাজার ৯২৪ কোটি টাকা দাবি করে। ২০১৬ সালের ১২ এপ্রিল এই দাবির বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করে। এরপর এনবিআরের আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ দেয়া হয়। সুপ্রিম কোর্ট ২০১৮ সালের ২৫ জুলাই বিএটিবিসির পক্ষে রায় দেয়। এনবিআর এর বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন করলে গত ৯ ডিসেস্বর শুনানি শেষে আপিল বিভাগ এনবিআরের আদেশকে অবৈধ ঘোষণা করে।


পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত খাদ্য ও আনুষাঙ্গিক খাতের কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ লিমিটেড বা বিএটিবিসির কাছে বিপুল পরিমাণ অর্থ দাবি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআরের আদেশটিকে অবৈধ ঘোষণা করেছে আদালত। আপিল বিভাগে বিষয়টি মীমাংসা হওয়ায় কোম্পানিটিকে আর সেই টাকা দিতে হচ্ছে না।


এই দাবি পরিশোধ করতে হলে কোম্পানিটির রিজার্ভের ৬৭ শতাংশই নিঃশেষ হয়ে যেতে পারত। কোম্পানিটির ৫৪ কোটি শেয়ারের প্রতিটির বিপরীতে টাকা পরিশোধ করতে হতো ৩৯ টাকা ৫৭ পয়সা করে, যা চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত আয়ের প্রায় দ্বিগুণ।


কোম্পানিটির রিজার্ভে আছে ২ হাজার ৮৬৮ কোটি ৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে এনবিআর দাবি করেছিল ১ হাজার ৯২৪ কোটি টাকা।


গত ১ নভেম্বর কোম্পানিটি ঢাকা ও চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জকে জানায়, এনবিআর তাদের কাছ থেকে ২ হাজার ৪৩৭ কোটি টাকা দাবি করেছে।


এতে জানানে হয়, কোম্পানিটির ‘পাইলট ও ব্রিস্টল ব্র্যান্ডের’ মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্কের বিপরীতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ১ হাজার ৭৮০ কোটি ৬ লাখ টাকা দাবি করেছিল। এই দাবির বিপক্ষে উচ্চ আদালতে যায় কোম্পানিটি। রায় তাদের পক্ষেই আসে।


তবে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একটি রায়ের বিরুদ্ধে সরকার রিভিউ আবেদন করে। সেটি এখন শুনানির অপেক্ষা আছে।


এবার এনবিআর হাইকোর্টের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্কের হিসেবে আগের চেয়ে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা বেশি দাবি করেছে। এনবিআর বলছে, ২০১৭ সালের বিশেষ আদেশ অনুযায়ী সিগারেটের আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের ক্ষেত্রে উচ্চ হারে ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক প্রযোজ্য। এই আদেশটি ২০১৮ সালে বাতিল হয়ে যায়। কিন্তু এর আগে সিগারেটের ওপর উচ্চ হারে শুল্ক আদায়যোগ্য।


বিএটিবিসি বলছে, এই আদেশের বিরুদ্ধেও আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়েছে। এরপর আদালত বিষয়টির ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছে।


তবে তিন মাস পর বৃহস্পতিবার কোম্পানিটি ঢাকা ও চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জকে কোম্পানিটি জানায়, আপিল বিভাগ এনবিআরের দাবিতে অবৈধ ঘোষণা করেছে।


কোম্পানিটি জানায়, ২০১৩ সালের ২৩ নভেম্বর এনবিআর তাদের কাছ থেকে ১ হাজার ৯২৪ কোটি টাকা দাবি করে। ২০১৬ সালের ১২ এপ্রিল এই দাবির বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করে। এরপর এনবিআরের আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ দেয়া হয়। সুপ্রিম কোর্ট ২০১৮ সালের ২৫ জুলাই বিএটিবিসির পক্ষে রায় দেয়।


২০২০ সালের ২৫ মার্চ এনবিআর সেই আদেশের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন করে। গত ৯ ডিসেম্বর সেই রিভিউ আবেদনের ওপর শুনানি করে এনবিআরের আদেশকে অবৈধ ঘোষণা করে। ফলে কোম্পানিটির কাছ থেকে এনবিআরের সেই পাওনা দাবির আর কোনো সুযোগ রইল না।


গত ১ নভেম্বর কোম্পানিটি যখন এই তথ্য স্টক এক্সচেঞ্জকে জানায়, তার কিছুদিন আগে থেকেই শেয়ারদর পড়তে থাকে।


গত ১৭ অক্টোবার শেয়ারদর ছিল ৭৪৯ টাকা ৬০ পয়সা। সেটি কমতে কমতে ছয় শ টাকার নিচে নেমে আসে ৪ নভেম্বর। তবে এরপর থেকে ধীরে ধীরে দর বাড়তে থাকে।


বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বস্তিকর এই সংবাদ প্রকাশটি প্রকাশের দিন শেয়ারদর ছিল ৬৫০ টাকা ৮০ পয়সা।


এদিন কোম্পানিটির প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে। আগের দিন হাতবদল হয়েছিল ১ লাখ ৫৭ হাজার ৫৫৭ টি শেয়ার। আজ হাতবদল হয়েছে ৪ লাখ ৮৭ হাজার ৯২২টি।

Post a Comment

Previous Post Next Post