শিশুকন্যাকে হারিয়ে পাগলপ্রায় বাবা, পা কেটে ফেলা স্ত্রীর অবস্থাও সংকটাপন্ন

 


ময়মনসিংহের সুতিয়াখালীর শ্বশুরবাড়ি থেকে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় সাত মাসের শিশু সিন্নাতুর নূরকে হারিয়ে এখন পাগলপ্রায় আহত বাবা রুবেল মিয়া। চোখের সামনে শিশুকন্যার এমন করুণ মৃত্যুতে নির্বাক তিনি।


সেইসাথে যুক্ত হয়েছে দুর্ঘটনায় গুরুত্বর আহত স্ত্রী অমি আক্তারের ডান পা কেটে ফেলার দুঃসহ চিত্র। দুর্ঘটনায় ক্ষত-বিক্ষত রুবেল মিয়া নিজে কিছুটা চলাফেরা করতে পারলেও স্ত্রী অমি আক্তারকে সংকটাপন্ন অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।


একদিকে শিশুকন্যার শোকযন্ত্রণা অন্যদিকে স্ত্রীর এমন করুণ পরিস্থিতিতে দিশেহারা তিনি।


হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে রুবেল মিয়া চিৎকার করে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আল্লাহ তুমি কেন আমাকে নিলে না। আমার অবুঝ শিশুটির কি দোষ ছিল। স্ত্রী অমিরও এক পা কেটে ফেলতে হলো। আমি এখন কি নিয়ে বাঁচব। আমি কেন মরলাম না।


নিহত শিশুর নানি জামেদা আক্তার যুগান্তরকে জানান, তিন দিন আগে নরসিংদীর ঘোড়াশাল থেকে স্বামী-সন্তানকে নিয়ে মেয়ে অমি আক্তার সুতিয়াখালিতে বেড়াতে আসে। সকালে বাসে ঘোড়াশাল সার কারখানায় স্বামীর কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয় তারা। দুপুরে শুনেন নাতনি হাসপাতালে মারা গেছে, মেয়ের পা কেটে ফেলা হয়েছে। অমির অবস্থা খারাপ, জামাইও আহত।


তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, দুর্ঘটনায় মেয়ের পরিবারটি শেষ। সারাজীবনের জন্য এ কান্না। এমন করুণ পরিণতি যেন কারো না হয়।


বুধবার দুপুরে ময়মনসিংহ-ঢাকা মহাসড়কের ত্রিশালের কাজির শিমলা এলাকায় বিকল ট্রাকের সঙ্গে দ্রুতগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় আহত হয় কমপক্ষে ১৫ জন। এর মধ্যে গুরুত্বর আহত ১২ জনকে কমিউনিটি বেজড মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।


সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ১টার দিকে রুবেল মিয়ার সাত মাসের শিশুকন্যা সিন্নাতুর নূর মারা যায়। গুরুতর আহত স্ত্রী অমি আক্তারের ক্ষত-বিক্ষত ও থেঁতলে যাওয়া ডান পা হাঁটু পর্যন্ত কেটে ফেলা হয়। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করেন চিকিৎসকরা।

Post a Comment

Previous Post Next Post