১০ হাজার টাকা দিলাম, দেখি আমাকে সিআইডি এরেস্ট করে কিনা: জাফর ইকবাল

 


অবশেষে অনশন ভাঙতে যাচ্ছেন শাহ'জালাল বিজ্ঞান ও প্রযু'ক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে আ'ন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

সকাল ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল ও তার স্ত্রী' ড. ইয়াসমিন হকের হাতে পানি পান করে অনশন ভাঙবে বলে কথা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

এর আগে মঙ্গলবার গভীর রাত ৩টা ৫৫টায় সস্ত্রী'ক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আসেন ড. মুহাম্ম'দ জাফর ইকবাল।

টানা দুই ঘণ্টারও বেশি কথা বলার পর শিক্ষার্থীরা অনশন ভাঙবে বলে জানান ড. জাফর ইকবাল।

এ সময় শিক্ষার্থীরা তাকে পেয়ে গ্রে'ফতার সাবেক পাঁচ শিক্ষার্থীর মুক্তি দাবি তোলেন।

শিক্ষার্থীদের সব অ'ভিযোগ ও দাবি শোনার পর ড. জাফর ইকবাল আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

পকেট থেকে টাকা বের করে বলেন, ‘আমি আসলে এসেছি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে। আমি খুব ইমোশনাল, আমা'র চোখে পানি চলে আসে। ওরা (সাবেক পাঁচ শিক্ষার্থী) টাকা-পয়সা দেওয়ায় গ্রে'ফতার হয়েছে। তোমাদেরকে সাহায্য করতে যদি এরেস্ট হতে হয় তাহলে আমিও হব। আমি তোমাদেরকে এই ১০ হাজার টাকা দিলাম। এ টাকা দিয়ে তোমাদের তেমন কিছু হবে না জানি। কিন্তু আমি দেখতে চাই সিআইডি আমাকে এরেস্ট করে কিনা।’

ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে শাবির সাবেক অধ্যাপক বলেন, ‘আমি ধরে নিয়েছিলাম, অনশনের এখানে মেডিকেল টিম আছে। তারা সার্বক্ষণিক দেখভাল করছেন। কিন্তু এখানে এসে দেখলাম, ডাক্তাররা ছিলেন কিন্তু তাদের ভ'য়-ভীতি দেখিয়ে এখান থেকে সরিয়ে দিয়েছে। আমি এসব ঘটনা বলব। এখানের অনশনকারীদের অবস্থাই যখন এতো খা'রাপ, তাহলে অ'সুস্থ ২০ জনের কি অবস্থা! আমি শঙ্কিত। এটা চরম অমানবিকতা। ’

গত ১৬ জানুয়ারি শিক্ষার্থীদের ওপর পু'লিশের লা'ঠিচার্জ, রাবার বুলেট নিক্ষেপের প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি আইজিপিকে বলেছি, ছাত্রদের বিশ্বা'স করুন। ছাত্ররা মুক্তিযু'দ্ধ করেছে। তাদের মা'রবেন না। সবার হাতে স্মা'র্টফোন থাকে একটা ছবি দেখান যে, ছাত্ররা গু'লি করেছে। এসবের কোনো প্রমাণ নেই।’

শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙানোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তোম'রা আমাকে গণমাধ্যমগুলোর সামনে কথা দিয়েছ, এই অনশন ভাঙবে। তোমাদের জীবন অনেক মূল্যবান। একজন মানুষের জন্য তোম'রা জীবন দিয়ে দেবা এটা মানা যায় না। সাবেক পাঁচ শিক্ষার্থীর বিষয়ে কথা হয়েছে। যেহেতু মা'মলা করা হয়ে গেছে তো আ'দালতে তোলা হবে। তারা কথা দিয়েছেন ছাত্রদের জামিন দেওয়া হবে।’

‘তোম'রা টের পাচ্ছ না তোম'রা কি করেছে। ৩৪ জন ভিসির ঘুম নষ্ট হয়ে গেছে। তোম'রা সারা বাংলাদেশের বিশ্ববিশ্ববিদ্যালয়ে নাড়া দিয়েছ। তোমাদের আমি অ'ভিনন্দন জানাই। এমন আ'ন্দোলনে বাইরের মানুষ নিজেদের স্বার্থে নিয়ে নেয়। তোম'রা সেটা হতে দাওনি। আমি বহিরাগত। এরপরও তোম'রা যদি আমাকে ডাকো আমি সাড়া দেব।’

প্রসঙ্গত, আ'ন্দোলনে অর্থ জোগানের অ'ভিযোগে শাবিপ্রবির সাবেক ৫ শিক্ষার্থীর বি'রুদ্ধে মা'মলা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকালে সিলেট মহানগর পু'লিশের কাছে হস্তান্তরের পর রাতে তাদের বি'রুদ্ধে মা'মলা করা হয়। এর আগে ঢাকা পু'লিশের অ'প'রাধ ত'দন্ত বিভাগ (সিআইডি) ওই ৫ জনকে সিলেট পু'লিশের কাছে হস্তান্তর করে।

মা'মলা দায়েরের পর তাদের গ্রে'ফতার দেখানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন সিলেট মেট্রোপলিটন পু'লিশ কমিশনার মো. নিশারুল আরিফ।

গ্রে'ফতার সাবেক পাঁচ শিক্ষার্থী হলেন – হাবিবুর রহমান খান (২৬), রেজা নুর মুইন (৩১), এএফএম নাজমুল সাকিব (৩২), একেএম মা'রুফ হোসেন (২৭), ফয়সাল আহমেদ (২৭)।

Post a Comment

Previous Post Next Post