মাকে দেখতে কি দেশে ফিরবেন তারেক?

 


বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার দাবিতে বিএনপি নতুন করে আ'ন্দোলন শুরু করেছে। আজ গণ অনশন কর্মসূচির পর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইস'লাম আলমগীর বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং বর্তমান সরকারের পদত্যাগের লক্ষ্যে একদফা আ'ন্দোলন শুরু করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।


কিন্তু এক দফা আ'ন্দোলন হলেও বাস্তবতা হলো এই যে, বিএনপি চাচ্ছে যেকোনো মূল্যে বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবি আদায় করতে। কেন্দ্রীয় সরকার এখন পর্যন্ত তার অবস্থানে অটল। বিএনপির একাধিক নেতারা উৎকন্ঠিত। তারা মনে করছে বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক যে অবস্থা তাতে যেকোনো সময় যে কোনো কিছু ঘটতে পারে।


ঘটে গেলে বিএনপি কি করবে এবং আ'ন্দোলন কতদূর পর্যন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে এনিয়ে বিএনপির মধ্যে বিভিন্ন রকম আলাপ-আলোচনা চলছে। এই আলাপ আলোচনার মধ্যেই তারেক জিয়ার দেশে ফেরা নিয়ে একরকম গুঞ্জন শুরু হয়েছে। বিএনপির অনেক নেতাই মনে করছেন যে, বেগম জিয়ার বর্তমান শারীরিক যে অবস্থা তাতে বোঝা যাচ্ছে যে তার শেষ সময় সামনে চলে এসেছে।


নাট'কী'য় কিছু না ঘটলেও বেগম জিয়া এখন অন্তিম পরিণতির অ'পেক্ষায়। আর এরকম সময় তারেক জিয়ার দেশে ফিরে আসা উচিত বলে বিএনপির কোন কোন নেতা মনে করছেন। তারা মনে করছেন যে তারেক জিয়ার বিভিন্ন সময় বলেছিলেন যে তিনি উপযু'ক্ত সময় দেশে ফিরবেন। বিএনপি নেতাদের ধারণা এটি তারেক জিয়ার দেশে ফেরার উপযু'ক্ত সময়।


বিএনপির একাধিক নেতা বলছেন যে, এই রকম সময় যদি তারেক জিয়া দেশে ফিরে আসে তাহলে দুদিক থেকে লাভবান হবে বিএনপি। প্রথমত, তারেক জিয়া যে তার মায়ের প্রতি দায়িত্বশীল এবং মায়ের প্রতি তার ভালোবাসা আছে সেই আবেগের প্রকাশ ঘটবে। এর ফলে জনগণের মধ্যে একটি ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া হবে।


দ্বিতীয়ত, খালেদা জিয়ার যদি কোন কিছু হয় এবং সে সময় যদি তারেক জিয়া দেশে ফেরেন তাহলে খালেদা জিয়ার শেষ পরিণতি নিয়ে যে আবেগ সেই আবেগের সঙ্গে তারেকের দেশে ফেরা যু'ক্ত হলে একটি বড় ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হবে এবং এটিতে সরকার চাপের মধ্যে পড়বে। কিন্তু লন্ডনে বিএনপির ভা'রপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়ার এ ব্যাপারে কোন মনোভাব জানা যায়নি। বিএনপি নেতাদের কেউ কেউ তারেক জিয়াকে এখন দেশে ফেরার পরাম'র্শ দিচ্ছেন।


কিন্তু তারেক জিয়া দেশে ফিরবেন কি ফিরবেন না এ স'ম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্ত জানান নি। উল্লেখ যে, দুটি মা'মলায় তারেক জিয়া দ'ণ্ডিত আছেন। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হা'মলা মা'মলায় তাকে যাব'জ্জীবন কারাদ'ণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্য একটি মা'মলায় তার সাত বছরের দ'ণ্ড দিয়েছে বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের হাই'কোর্ট বিভাগ। এই দুটি মা'মলাতেই তিনি আপিল করার নির্দিষ্ট সময়সীমা হারিয়েছেন। কাজেই দেশে ফিরলে অনিবার্যভাবেই তাকে জে'লে যেতে হবে।


বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা বলছেন যে, নির্দিষ্ট সময় যে আপিল করার বিধান সেটি পরিবর্তনযোগ্য। দেশে ফিরলেও তিনি আপিল করতে পারবেন। কিন্তু মোদ্দা কথা হলো দেশে ফেরার সাথে সাথে তাকে জে'লে যেতে হবে। আর বিএনপি নেতাদের কেউ কেউ খুব একটা আশাবাদী নন। তারা মনে করেন না যে দেশের বর্তমান বাস্তবতায় তারেক জিয়া দেশে ফিরলে খুব একটা কিছু ঘটবে। বরং তারেক জিয়া দেশে ফিরলে আম-ছালা দুটোই যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


একদিকে বেগম খালেদা জিয়া অকার্যকর। অন্যদিকে তারেক জিয়া যদি দেশে ফিরে গ্রে'প্তার হন তাহলে বিএনপির নিঃশেষ হওয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হবে। আর এ বিবেচনা থেকেই বিএনপি নেতাদের ওই অংশ তারেক জিয়ার দেশে ফেরার বি'রুদ্ধে। তারা মনে করছেন যে, বর্তমান সরকার যতক্ষণ আছে ততক্ষণ তারেক জিয়ার দেশে ফেরার কোনো সুযোগ নেই। আর এ কারণেই তারেক পন্থী বিএনপি নেতৃবৃন্দ তারেক জিয়ার দেশে ফেরার বিষয়টি নিয়ে খুব একটা পাত্তা দিতে চাচ্ছে না।


বরং খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার দাবিতে আ'ন্দোলন এবং খালেদা জিয়ার কিছু হলে বড় ধরনের আ'ন্দোলনের মাধ্যমেই তারা তাদের পরিকল্পনা আঁটতে চাইছেন। কিন্তু অ'তীতেও দেখা গেছে যে, বেগম খালেদা জিয়া যখন ২০১৮ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি গ্রে'প্তার হয়েছিলেন তখন সারা দেশে আ'গুন জ্বালানোর কথা বলে বিএনপি কিছুই করতে পারে নাই। এখন বিএনপি খালেদা জিয়ার বিদেশে যাওয়া কিংবা তাকে রক্ষার জন্য কিছু করতে পারবে এমনটি বিশ্বা'স করে বিএনপির খুব কম নেতাই।

Post a Comment

Previous Post Next Post