বিয়ের সাজেই পরীক্ষা কেন্দ্রে তরুণী

 


বিয়ের লগ্ন, একটি পেরিয়ে গেলে পরেরটি। সময়ের ফারাক বড়জোড় হলে আর কত হবে-দুই..আড়াই..তিন বা খুব বেশি হলে চার ঘণ্টা। কিন্তু পরীক্ষার এই তিন ঘণ্টা পেরিয়ে গেলে সেটা তো আর ফিরে আসবে না। তার ওপর পঞ্চ'ম সেমিস্টার বলে কথা! আগে পরীক্ষা পরে বিয়ে। তাই কনের সাজেই ছুটলেন পরীক্ষা কেন্দ্রে।


গা ভর্তি সোনার গহনা, হাতে মেহেদি, পরনে বেনারসি- একদম বধূ সাজে বাকি পাঁচজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে পরীক্ষা দিলেন ভা'রতের শি'বাঙ্গী। আর সেই ছবি রীতিমতো ভাই'রাল। ভালো-মন্দ মন্তব্যে ভরে উঠে সামাজিক মিডিয়ার একাধিক প্ল্যাটফর্ম।


কেউ কেউ বলেন, ‘এতটা বাড়াবাড়ি না করলেই কি নয়! শি'বাঙ্গীর ইচ্ছেটা অ'তিরঞ্জিত!’ তাদের পাল্টা উত্তর দিয়ে অন্য একটি অংশ বলছে, ‘নিন্দুকদের কথায় কান দিও না শি'বাঙ্গী। বিয়ের চেয়ে শিক্ষাকে বড় করে দেখানোর তোমা'র এই যে প্রয়াস, তাকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।’


অন্য একজনের কথায়, ‘নিজের চোখ দিয়ে অ'পরকে বিচার করা বন্ধ করুন। শিক্ষাকে শি'বাঙ্গী যে গুরুত্ব দিয়েছেন, সেটাকেই বড় করে দেখু'ন।’


সব শুনে মন্দ কথার জবাব দিয়েছেন শি'বাঙ্গীও। তিনি বলছেন, ‘আমা'র বিয়ের দিন ঠিক হয়ে যাওয়ার পরই পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা হয় নির্ঘণ্ট। দিনটি বাতিল করা আমাদের পরিবারের পক্ষে সম্ভব ছিল না। আর বিয়ের দিন সকাল থেকেই পাত্রীর বাড়িতেই প্রথা মেনে নানা অনুষ্ঠান লেগেই থাকে। তাতে কনেকে অংশ নিতে হয়। আমি ব্যতিক্রম নই। তাই বিয়ের পোশাক পরে পরীক্ষা দিয়েছি। তা দেখে কেউ তির্যক মন্তব্য করতেই পারেন। তবে আমি মনে করি, বিয়ে কিছুক্ষণ অ'পেক্ষা করতে পারে। কিন্তু পরীক্ষা নয়।


এদিকে ব্যাচেলার অব সোশ্যাল ওয়ার্ক (বিএসডব্লিউ) নিয়ে পড়ছেন শি'বাঙ্গী। হবু স্বামীর বিষয়ও একই। দুজনই শান্তিনিকেতন কলেজের শিক্ষার্থী। এদিন পঞ্চ'ম সেমিস্টারের পরীক্ষা ছিল। শি'বাঙ্গী কনের সাজে সেই পরীক্ষা দেওয়ার পরই বিয়ের পিঁড়িতে বসেন।


তিনি বলছিলেন, ‘এছাড়া আমা'র কাছে আর কোনো উপায় ছিল না। হবু স্বামীর পরিবার থেকেও কোনো আ'পত্তি ওঠেনি। বরং তারা আমাকে উৎসাহ যুগিয়েছেন।’

Post a Comment

Previous Post Next Post