ক’রোনা বিপর্যয় কাটিয়ে ফের ধীরে ধীরে ছন্দে ফিরছে টেলিভিশন। দীর্ঘ প্রায় এক বছরের বিরতির পর ফের শুরু হয়েছে ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’। নতুন সিজন নিয়ে, কোটিপতি হওয়ার সুযোগ নিয়ে ফের পর্দায় ফিরে এসেছেন অমিতাভ বচ্চন। গত সপ্তাহ থেকেই মহাসমারোহে শুরু হয়েছে ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি সিজন ১৩’ (Kaun Banega Crorepati Season 13)। আর ঠিক এক সপ্তাহের মাথাতেই কোটিপতি প্রতিযোগীকে পেয়ে গেল কেবিসি। এই সিজনের দৃষ্টিহীন প্রতিযোগী হিমানী বুন্দেলা (Himani Bundela) জিতে নিলেন এক কোটি টাকা।
নতুন সিজন শুরুর দিন থেকেই মোটা অংকের অর্থ জিতে নিয়েছেন বহু প্রতিযোগী। তবে এতদিন কোটিপতি হওয়ার সুযোগ যেন অর্ধরাই থেকে যাচ্ছিল প্রতিযোগীদের কাছে। সেই খরা কাটিয়ে চলতি সিজনের প্রথম কোটিপতি বিজেতা হলেন সিজনের দৃষ্টিহীন প্রতিযোগী হিমানী বুন্দেলা। এই মঞ্চে কোটিপতি হতে পেরে আনন্দে আপ্লুত তিনি। খোদ অমিতাভ বচ্চনও তার হাতে কোটি টাকা তুলে দিতে পেরে আবেগে ভেসেছেন।
২৫ বছর বয়সি হিমানী জন্মান্ধ নন। আগে তার চোখের দৃষ্টি ছিল স্বাভাবিক। তবে ২০১১ সালের একটি দুর্ঘটনা তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। সেই দুর্ঘটনা হিমানীর দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নেয়। সেই সময়টা হিমানী এবং তার পরিবারের জন্য অভিশাপস্বরূপ ছিল। হিমানীর পরিবারের সদস্যরা মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছিলেন। বিশেষত তার বাবা-মা মেয়ের এমন পরিণতি মেনে নিতে পারছিলেন না। তবে ভেঙে পড়েননি হিমানী।
সেদিনের দুর্ঘটনায় হিমানী তার দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছিলেন, লক্ষ্য নয়। দৃষ্টিহীন হয়েও তিনি তার পড়াশোনা চালিয়ে গিয়েছেন। চাকরির পরীক্ষা দিয়েছেন। আজ একটি কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা তিনি। ছোট ছোট দৃষ্টিহীন শিশুদের অংক শেখান হিমানী। শুধু অংক নয়, হিমানী তাদের বেঁচে থাকার এবং জীবনে সফল হওয়ার পাঠও দিয়ে থাকেন। বিশেষভাবে সক্ষম শিশুদের উদ্দেশ্যে সচেতনতার বার্তা দিতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজনও করে থাকেন তিনি।
কেবিসি সিজন ১৩ এর প্রথম দৃষ্টিহীন প্রতিযোগী তিনি, যে ১ কোটি টাকা জিতে নিয়েছেন। এই এক কোটি টাকার প্রশ্নটি ছিল, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন ফ্রান্সে ব্রিটেনের গুপ্তচার হিসেবে কাজ করার সময় নূর এনায়েত খান কোন ছদ্মনাম নিয়েছিলেন?
১. ভেরা এটকিন্স ২. ক্রিস্টিনা স্কারবেক ৩. জুলিয়েন আইস্নর ৪. জিন-মেরি রেনিয়র
এই প্রশ্নের সঠিক জবাবটি হলো জিন-মেরি রেনিয়র। হিমানী প্রশ্নের সঠিক জবাব দিতে পেরেছেন। প্রশ্নের জবাব দেওয়ার পর তিনি অমিতাভ বচ্চনকে জানান এটি তিনি স্কুলে পড়েছিলেন। হিমানীর মেধা দেখে অবাক হয়ে যান অমিতাভ। শুধু তাই নয়, তিনি ক্যামেরার সামনে হিমানীর ভূয়ষী প্রশংসাও করেন।
