বান্দরবানের লামায় চাষীদের মাঝে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে কেঁচো (ভার্মি-কম্পোস্ট) সার। হাতের কাছে কাঁচামাল থাকায় এই সার উৎপাদনে আগ্রহী হয়ে উঠছেন কৃষকেরা। এ ছাড়া উপজেলা প্রতি মাসে ২ হাজার ২৫০ টন ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদন করছে ৭৫টি কৃষি উন্নয়ন সমিতি।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০১৬-১৭ সালে কৃষি অফিসের মাধ্যমে লামা পৌরসভার শিলেতুয়া এলাকায় কৃষকদের ট্রেনিং ও সার উৎপাদনের উপকরণ দেওয়া হয়। এ কেঁচো সার উৎপাদন করে অনেক কৃষক এখন স্বাবলম্বী হয়েছে। এ ছাড়া ব্যক্তি উদ্যোগে লামার বগাইছড়ি এলাকায় আজাদ নামের এক ব্যক্তি বাণিজ্যিকভাবে বিশাল সার উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তুলেছেন।
এদিকে এগ্রো-ইকোলজি প্রকল্পের আওতায় প্রান্তিক কৃষকদের কেঁচো সার উৎপাদন প্রশিক্ষণ দিচ্ছে কারিতাস। ২০১৩ সাল থেকে তিনটি প্রকল্পের আওতায় কেঁচো সার উৎপাদন শুরু করে সংস্থাটি। কৃষি উন্নয়ন সমিতির মাধ্যমে পরিচালিত কর্মসূচিতে আড়াই হাজার কৃষক সরাসরি কেঁচো সার উৎপাদনে যুক্ত।
সংস্থাটির লামার এগ্রো ইকোলজি প্রকল্পের মাঠ কর্মকর্তা মো. মামুন সিকদার জানান, কারিতাস স্যাপলিং প্রকল্প ও এগ্রো-ইকোলজি প্রকল্পের মাধ্যমে কেঁচো সার উৎপাদন ও জৈবিকভাবে চাষাবাদের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ জন্য আরসিসি রিং, কেঁচো, টিন, ত্রিপল সহায়তা পাশাপাশি প্রশিক্ষণ, শিক্ষা সফরের ব্যবস্থা করেছে। এ ছাড়া সার বিক্রির জন্য বিভিন্ন সার ও কেঁচো সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি করিয়ে দেওয়া হয়েছে।
কারিতাস কার্যালয় সূত্র জানা যায়, উপজেলায় ৭ ইউনিয়ন ও পৌরসভায় কৃষক পর্যায়ে এ সার উৎপাদন চলছে। ৭৫টি কৃষি উন্নয়ন সমিতির মাধ্যমে ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদন হয়। প্রতি ৩১ জন নারীর একটি সমিতি প্রতি মাসে গড়ে ৩০ টন কেঁচো সার উৎপাদন করে। এসব সংগঠনের ৮০ শতাংশ নারী এ সার উৎপাদন করে স্বাবলম্বী হয়েছে বলে দাবি সংস্থাটির।
এগ্রো-ইকোলজি প্রকল্পের রূপসীপাড়া ইউনিয়নের উত্তর দরদরী নয়াপাড়া কৃষি উন্নয়ন সমিতির নেত্রী নাছিমা বেগম জানান, ৩১ জন বিশিষ্ট কৃষি উন্নয়ন সমিতির মাধ্যমে গত ৪ মাসে ১৫ টন সার উৎপাদন হয়েছে। নিজের চাহিদা মিটিয়ে আশপাশের কৃষকদের মাঝেও বিক্রি করছেন তারা। প্রথমে ১৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতেন। পরে সার উৎপাদন বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে ১০ টাকা প্রতি কেজি বিক্রি করছেন। সারের ডিলাররা ও কৃষকেরা বাড়ি থেকেই এই সার ক্রয় করে নিয়ে যান।
ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ইয়াংছা এলাকার কৃষক নুরুল আবছার ও আমির হামজা জানান, ভার্মি কম্পোস্ট সার ব্যবহারের ফলে ফলন বেড়েছে। তা ছাড়া নিজেই উৎপাদন করি বলে খরচও কমে গেছে। কেঁচো সারের পাশাপাশি ৬০০ টাকা কেজি কেঁচো বিক্রি করে বাড়তি আয় হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সানজিদা বিনতে সালাম বলেন, রাসায়নিক সারে মাটির উর্বরতা হ্রাস পাচ্ছে। কেঁচো সার ব্যবহারে জমির জৈব উর্বরতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। সেই সঙ্গে বিষমুক্ত ফসল ফলানোতে জৈব সারের বিকল্প নেই। এ উপজেলায় কারিতাস এ সার উৎপাদনে ব্যাপক কাজ করে যাচ্ছে।
