হঠাৎ করেই উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং-উনের ওজন অনেক কমে গেছে। এর এটা দেখে দেশটির নাগরিকরা কাঁদছেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
কিমের শারীরিক অবস্থা নিয়ে নানা জল্পনা থাকলেও দেশটির সরকারনিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম এ বিষয়ে কখনই সুস্পষ্ট কিছু বলে না। গত মাসে প্রকাশ্যে আসা কিমের একটি ছবিতে দেখা যায়, উত্তর কোরিয়ার এই নেতা বেশ স্লিম হয়েছেন। এরপর উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম কিমের ওজন নিয়ে খবর প্রকাশ করল।
খবরে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার কোরিয়া সেন্ট্রাল টেলিভিশনে কিমের দুটি ফুটেজ প্রচারিত হয়। একটি ফুটেজে দেখা যায়, কিমের ওজন নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। অন্যদিকে দ্বিতীয় ফুটেজে পিয়ংইয়ংয়ের বাসিন্দারা কিমকে দেখে কাঁদতে শুরু করেন। সেন্ট্রাল টিভিকে একজন বলেন, কিমকে এত দুর্বল দেখে আমরা খুবই শোকাহত।
হঠাৎ করে উত্তর কোরিয়ার সরকারি নিয়ন্ত্রত গণমাধ্যমে কিমের ওজন কমা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করার বিষয়ে উত্তর কোরিয়াবিষয়ক ওয়েবসাইট ওয়ান কোরিয়া সেন্টারের প্রধান কেওয়াক গিল সিও বলেন, এর মাধ্যমে কোরিয়া সেন্ট্রাল টেলিভিশন সম্ভাবত বোঝাতে চেয়েছে, কিম ইচ্ছে করেই ওজন কমিয়েছেন। কিমের প্রতি জনগণের ভালোবাসা ও উদ্বেগ প্রকাশের জন্যও এমন খবর প্রচার করা হতে পারে।
কিম জং উনের বাবা কিম জং ইল ২০১১ সালে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে (হার্ট অ্যাটাক) মারা যান। এরপর উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতায় বসেন কিম জং উন। ওই সময় ভারি গঠনের কিম জং উন বিশ্বে ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করেন।
কিমের স্বাস্থ্য জল্পনার একটি সাধারণ বিষয়। ২০১৪ সালে তিনি প্রায় ৬ সপ্তাহ দৃশ্যের বাইরে চলে যান। এরপর তাকে লাঠি হাতে হাঁটতে দেখা যায়। এর কয়েকদিন পর দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা দাবি করেন, গোড়ালি থেকে ফোঁড়া অপসারণে কিমের সার্জারি করা হয়েছে।
গত বছর দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, কিম জং উনের ওজন ১৪০ কেজি। ২০১১ সালে উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতা গ্রহণের পর তার ওজন প্রতি বছর গড়ে ৬-৭ পাউন্ড বেড়েছে।
গত বছরের মার্চে উত্তর কোরিয়ার বসন্তকালীন সময়ে গুজব রটে যে, হার্ট সার্জারি করে কিম জং উন মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। কিছু রিপোর্টে তার মৃত্যুরও খবর প্রকাশ করা হয়। তবে কিম ফের সামনে আসার পর গ্রহণযোগ্য একটি সূত্র জানায়, করোনা মহামারিতে কিম নিজেকে কিছুটা বিচ্ছিন্ন করে পরিবারকে সময় দিচ্ছেন।
