বন্ধুকে হত্যার পর একাই জানাজা পড়েন নেজাম, লাশের হাত ধরে ক্ষমাও চান! তারপর



 রাঙ্গুনিয়ায় ট্রাকচালককে অপহরণের পর হত্যা ও মরদেহ গুমের রহস্য উন্মোচন করে চালকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার এক মাস পর শনিবার (২৪ এপ্রিল) রাত পৌনে ১২টার দিকে রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন শামীমের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে পারুয়া ইউনিয়নের একটি ডোবার মাটি খুঁড়ে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। একই দিন দুপুরে ঘটনার মূল হোতা মো. নেজাম ওরফে মিজানকে (২৬) সন্দ্বীপ থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার নেজাম রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমরা হাজীপাড়া এলাকার নুরুল আলমের ছেলে।

পুলিশের হাতে গ্রেফতারের পর রোববার (২৫ এপ্রিল) মো. নেজাম চট্টগ্রাম সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বেগম আঞ্জুমান আরার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এসব কথা বলেন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে। জবানবন্দিতে নেজাম জানান, ২৫ মার্চ ট্রাকে বালু আনার নাম করে আজিজুলকে কৌশলে রাঙামাটির বেতবুনিয়ার একটি নির্জন এলাকায় নিয়ে যান তিনি। সেখানে নেয়ার পর সুযোগ বোঝে ট্রাকে থাকা রেঞ্জ দিয়ে আজিজুলের মাথায় আঘাত করেন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ছুরিকাঘাতে হত্যা নিশ্চিত করেন। এরপর লাশ লুকিয়ে রাখেন পাহাড়ের গহীনে।

ঘটনার একদিন পর তার মাথায় আসে জানাজা ও দাফনের চিন্তা। সে অনুযায়ী ওই রাতেই কাঁধে করে লাশটি নিয়ে যান পাহাড়ের পাদদেশে একটি ডোবার সামনে। সেখানে নিজে একাই জানাজা পড়েন ও হত্যাকাণ্ডের জন্য বন্ধুর কাছে মাফ চেয়ে কবর দেয়ার মতো করে ডোবার তলদেশে লাশটি গুম করেন। এদিকে, নিখোঁজের এক মাস পর শনিবার রাতে পোমরা ইউনিয়নের চৌধুরীখিল এলাকার ওই ডোবা থেকে আজিজুলের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। আজিজুল একই উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আবদুল হাকিমের ছেলে।

২৫ মার্চ ট্রাকসহ নিখোঁজ হন আজিজুল। এ ঘটনায় পরদিন রাঙ্গুনিয়া থানায় জিডি করেন তার বাবা। জিডির পর তদন্তে নামে পুলিশ। ১০ দিনেও সন্ধান না পাওয়ায় ৬ এপ্রিল অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা করেন আজিজুলের মামা হায়দার আলী। ঘটনার প্রায় ১৫ দিন পর প্রযুক্তির সহায়তায় কক্সবাজার সদর এলাকা থেকে আজিজুলের মোবাইল ও রামু এলাকা থেকে ট্রাকটি উদ্ধারের পাশাপাশি অপহরণকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে দুজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে অপহরণকাণ্ডের সঙ্গে নেজামের সংশ্লিষ্টতার কথা জানান তারা। এরপর প্রযুক্তির সহায়তায় নেজামের অবস্থান নিশ্চিত করে শনিবার দুপুরে সন্দ্বীপ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার নেজাম পোমরা ইউনিয়নের হাজীপাড়া এলাকার নুরুল আলমের ছেলে। সন্দ্বীপের বাসিন্দা হলেও দীর্ঘদিন ধরে পরিবার নিয়ে হাজীপাড়ার পাহাড়ি এলাকায় থাকতেন তিনি।

এ বিষয়ে এএসপি (রাঙ্গুনিয়া-রাউজান সার্কেল) মো. আনোয়ার হোসেন শামীম বলেন, প্রযুক্তির সর্বোচ্চ প্রয়োগের মাধ্যমে দীর্ঘ এক মাস নিরবচ্ছিন্ন ও নিবিড় তদন্তে ক্লুলেস মামলাটির রহস্য উন্মোচন করতে আমরা সক্ষম হয়েছি। ঘটনার মূলহোতা নেজামকে গ্রেফতারের পর তার দেয়া তথ্যে ভুক্তভোগীর লাশ উদ্ধার করা হয়। স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া প্রেম রয়েছে সন্দেহে বন্ধুকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানান নেজাম। এ ঘটনায় অন্য কারো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কিনা তা মাথায় রেখে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

Post a Comment

Previous Post Next Post