
কটা দিন ধরে প্রচ’ণ্ড দুশ্চি’ন্তায় ছ’টফ’ট করছেন ইন্দোনেশিয়ার বাসিন্দা ৪৬ বছরের ইয়াইয়াক দ্বী এরনাওয়াতি। হা’রানো সাবমেরিন নাংগালা-৪২০ এর নাবিকদের জন্য পুরো ইন্দোনেশিয়া জুড়েই তো উ’দ্বেগের ঘনঘটা। কিন্তু এরনাওয়াতির দু’শ্চিন্তা অনেকের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি। হবেই না কেন? তার মে'য়ে-জামাই ২৩ বছরের পাণ্ডু ইয়ু’ধা কুসুমা যে ওই সাবমেরিনের নাবিক।
শুক্রবার (২৩ এপ্রিল) এক সাক্ষাতকারে এনরাওয়াতি কা’ন্নাজ’ড়িত কণ্ঠে বলেন, দোয়া করা ছাড়া আর কিছুই করার নেই আমাদের। যারা সাবমেরিনের অনুসন্ধানে কাজ চালাচ্ছে তাদের ওপর ছেড়ে দিয়েছি। আশা করছি সবাই নিরাপদে বাড়ি ফিরবে। আশায় বুক বেঁ’ধে তিনি আরও বলেন, আমা'র মনে হয় সে এখনও নিরাপদে আছে। এত-এত প্রশিক্ষণ নিয়েছে, প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার ক্ষ’মতা তাদের আছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষদিকে তার মে'য়ে মেগা দিয়ান প্রাতিবির (২৩) সঙ্গে বিয়ে হয় কুসুমা'র। সে অনেক দায়িত্ববান ছিল। ৫ বছর আগে নৌবাহিনীতে যোগ দেন কুসুমা। তার স্ত্রী' মেগা জাভা প্রদেশে থাকে এবং পেশায় মিডওয়াইফ (ধাত্রী)। এরনাওয়াতির সঙ্গে কুসুমা'র শেষ কথা হয় সোমবার সকালে। তখনই সে বালি উপকূলে মহড়ার কথা জানায়। তিনি বলেন, মহড়ায় অংশ নেয়ার কথা বলে কুসুমা আমা'র কাছে দোয়া চাইলো। বললো, আমা'র জন্য দোয়া করবেন। সাবমেরিন নিয়ে মহ’ড়ায় যাচ্ছি।
এরনাওয়াতি বলেন, তখন আমি বলেছিলাম যে সাবধানে থেকো বাবা, তুমিই পরিবারের শেষ সম্বল। কুসুমা'র নিজের ও তার স্ত্রী'র মোট দুজন ছোট ভাই রয়েছে। কুসুমা'র বাবাও সে'নাবাহিনীতে থাকায় অনেক আগে থেকেই কুসুমা'র ইচ্ছা ছিল সাম'রিক বাহিনীতে যোগ দেয়ার। এরনাওয়াতি জানান, বুধবার সাবমেরিন হা’রানোর খবর প্রথমে পাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এরপর রাতেই সাবমেরিনটির কমান্ডারের স্ত্রী' এক চ্যাট গ্রুপে সবাইকে বিষয়টি জানান।
এরনাওয়াতি আরও জানান, সম্প্রতিই দাম্পত্য জীবন শুরু করা তার মে'য়ে এখনও ঘটনাটি মেনে নিতে পারেনি। সারাদিন ব’দ্ধ ঘরে ব’ন্দী করে রেখেছে নিজেকে। আম'রা তাকে কেবল সান্ত্বনা দিচ্ছি যে, ফিরে আসবে কুসুমা। তা ছাড়া আর কিই বা করতে পারি আম'রা। সূত্র : সিএনএ