ব্যাংক কর্মকর্তা মোরশেদকে আত্মহত্যায় বাধ্য করা হয়েছে:বিস্তারিত তার স্ত্রীর মুখে



ক্রমাগত মানসিক চাপ দিয়ে ব্যাংক কর্মকর্তা আব্দুল মোরশেদ চৌধুরীকে আত্মহত্যায় বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার স্ত্রী ইশরাত জাহান চৌধুরী। তিনি বলেন, আমার দৃষ্টিতে এটি হত্যাকাণ্ড। তাকে আত্মহত্যায় বাধ্য করা হয়েছে। আমি আমার স্বামীর আত্মহননের নেপথ্যে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার চাই।

রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আব্দুল মোরশেদ চৌধুরীর পরিবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান তিনি। 

গত বুধবার নগরের হিলভিউ আবাসিক এলাকার নাহার ভিলা নামের একটি বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপক আব্দুল মোরশেদ চৌধুরী। এ সময় উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোটে মোরশেদ লিখেছেন, ‘আর পারছি না। সত্যি আর নিতে পারছি না। প্রতিদিন একবার করে মরছি। কিছু লোকের অমানসিক প্রেসার আমি আর নিতে পারছি না। প্লিজ, সবাই আমাকে ক্ষমা করে দিয়ো। আমার জুমকে (মেয়ে) সবাই দেখে রেখো। আল্লাহ হাফেজ।’ এ ঘটনায় পরদিন ইশরাত জাহান চৌধুরী বাদি হয়ে পাঁচলাইশ থানায় একটি আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলা করেন। তাতে পারভেজ ইকবাল, জাবেদ ইকবাল, সৈয়দ সাকিব নাঈম উদ্দিন, যুবলীগ নেতা রাসেল ও অজ্ঞাতনামমা সাত আটজনকে আসামি করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ইশরাত জাহান চৌধুরী লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করেন, আমার স্বামীর ফুফাতো ভাই জাবেদ ইকবাল চৌধুরী, পারভেজ ইকবাল চৌধুরী ও পাঁচলাইশের সৈয়দ সাকিব নাঈম উদ্দীনের কাছে থেকে ২০১১ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ব্যবসাসূত্রে ২৫ কোটি টাকা নেয় মোরশেদ। ২০১৮ সালে লভ্যাংশসহ তাদের পরিশোধ করা হয় ৩৮ কোটি টাকা। এরপর থেকে আরও টাকা দাবি করতে থাকে তারা। এ জন্য আমার স্বামীকে তারা ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিকভাবে চাপ এবং হুমকি-ধামকি দিতে থাকে। ২০১৮ সালের মে মাসে আমার স্বামীকে পাঁচলাইশের এম এম টাওয়ারে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে আরও ১২ কোটি টাকা বাড়তি তারা পায় উল্লেখ করে জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে সই নেওয়া হয়। স্বামী, আমার ও আমার মেয়ের পাসপোর্ট নিয়ে নেওয়া হয়। আজ পর্যন্ত তা ফেরত পাইনি। 

তিনি বলেন, ২০১৯ সালে আমাদের হিলভিউর বাসায় হামলা করা হয়েছে। প্রতিনিয়ত আমার স্বামীকে হয়রানি, মানসিক নির্যাতন ছাড়াও বাসায় হামলা, কন্যাকে অপহরণ এবং স্বামীকে খুন করার হুমকি দেওয়া হয় অনেকবার। তাদের নির্যাতনের কারণেই মূলত আমার স্বামী আত্মহত্যার পথ বেঁচে নেয়

Post a Comment

Previous Post Next Post