বগুড়ার শেরপুরের কুসুম্বি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মালিহাটা, চন্ডেশ্বর গ্রামে রাস্তার সাথে সূর্যমুখীর ফুলের মৌ মৌ ঘন্ধ। জমিতে সবুজ পাতার মাঝে হলুদ ফুল উকি দিচ্ছে, আর বাতাশে দুলছে। সূর্যমুখী ফুল দেখতে প্রতিদিন বিকেলে শত শত দর্শনার্থীরা ভীড় করছে। ফুল দেখে মুগ্ধ হচ্ছে দর্শনার্থী।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মালিহাটা রাস্তার পাশে মিলনের জমিতে বাতাশের সাথে দোল খাচ্ছে ফুল। ফুল যেন হাসিমুখে সূর্যের আলো ছড়াচ্ছে। চারিদিকে হলুদ ফুল আর সবুজ গাছের অপরূপ দৃশ্য। এ সৈন্দর্য দেখতে আশপাশের এলাকা থেকেও তার জমিতে ভিড় জমাচ্ছেন অনেকেই। কেউ কেউ আবার ফুলের সঙ্গে দাঁড়িয়ে ছবিও তুলছেন।

পারভবানীপুর থেকে আসা দর্শনার্থী লাবন্য জানান, সূর্যমীখু ফুল চাষ এখন দেখতেই পাওয়া যায়না। এখানে চাষ করছে জানতে পেড়ে দেখতে এসেছি। খুব ভাল লাগেছে ফুলের বাগানে এসে। বগুড়া পলেটেকনিক্যাল কলেজের ছাত্র সিয়াম, নাঈম, মোস্তফা জানান, আমরা ফেসবুকে দেখে তিন বন্ধু এখানে এসেছি। ফুলের মৌ মৌ ঘ্রাণ মৌমাছির ভো ভো শব্দ আর ফুলের সৌন্দর্যে খুব ভালো লাগছে।
ফুল চাষী কুসুম্বি ইউনিয়নের মালিহাটা গ্রামের মিলোন সঙ্গে কথা বলে জানাযায়, প্রথমবারের মতো আব্দুর রউফ জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ শুরু করেছে। সূর্যমুখী ফুলের বাম্পার ফলনের আশা করছেন মিলোন, আব্দুর রউফসহ শেরপুর উপজেলার কৃষকরা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সার ও বীজ প্রণোদনার মাধ্যমে মিলোন এ বছর ১ বিঘা জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ শুরু হয়েছে। অন্য ফসলের চেয়ে কম পরিশ্রমে ভালো আয় হবে জানিয়ে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করে লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন কৃষক মিলোন। ইতোমধ্যেই গাছে ফুল এসেছে গাছে। ফুল দেখতে প্রতিদিন প্রায় ১৫শ দর্শনার্থী আসে এখানে। তারা অনেকে ফুল ছিড়ে, বিশেষ করে মেয়েরা, তাই সারাদিন পাহারা দিতে হচ্ছে।

মোমিন আরো জানান, অল্প সময়ে কম পরিশ্রমে ফসল উৎপাদন ও ভালো দাম পাওয়া যায় বলে এখন সূর্যমুখী চাষ করছেন। প্রতি বিঘা জমিতে মোট ৫হাজার টাকা হবে। মাত্র ৮৫ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে বীজ বপণ থেকে শুরু করে বীজ উৎপাদন করা সম্ভব। প্রতি বিঘাতে গড়ে খরচ বাদ দিয়ে ১২ থেকে ১৮ হাজার টাকা লাভ হওয়ার সম্ভাবনা। যা অন্য কোনো ফসলের চেয়ে কম পরিশ্রমে ভালো আয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে আশা করছেন ভালো আয় হবে।”
শেরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবীদ শারমিন আক্তার বলেন, সূর্যমূখী ফুল আমাদের উপজেলায় তেমন চাষ হয়না তবে এবার কুসুম্বি, গাড়ীদহ, মির্জাপুুর, সুঘাট, শাহবন্দেগী ইউনিয়নে অল্প অল্প করে মোট ১০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। “সূর্যমুখী চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে বিনামূল্যে বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। প্রতি বিঘা জমিতে ছয় থেকে ৭ মণ সূর্যমুখী ফুলের বীজ পাওয়া যাবে। সূর্যমুখী ফুলের চাষ করলে ফুল থেকে তেল, খৈল ও জ্বালানি পাওয়া যায়। এই তেল প্রতি লিটার বাজার সর্বনিম্ন বাজার মূল্য ২৫০ টাকা। কৃষকদের স্বাবলম্বী করতেই সূর্যমুখী ফুল চাষে উৎসাহিত করা হয়েছে। যদি সফল হওয়া যায় আগামীতে সূর্যমুখীর চাষ অনেক বাড়বে।
