দিনম'জুর বা'বার এক'মাত্র কন্যা সন্তান লতা রায় (২০)। অভাব অনাটনের সং'সারে ল'তা রায়ের পড়া'লেখা করাটা'ই ছিল বড় কঠিন। তারপরেও অভাব'কে হার মা'নেনি সে। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি ও এইচএস'সি পরীক্ষায় পে'য়েছেন ‘এ’ প্লাস। ইচ্ছা পড়াশোনা করে ডাক্তা'র হয়ে মানুষের সেবা করার। এজন্য মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য আবেদন'ও করেছেন। এখন লিখিত পরীক্ষার জন্য প্রস্তু'তি নিচ্ছেন লতা রায়।
কিন্তু বাবার অভা'বের সংসার। তিনি নি'জেও প্রচণ্ড মা'থা যন্ত্র'ণায় ভোগেন। তবে অর্থের অভাবে চিকিৎসাও করাতে পারেন না। তাই অর্থ জোগাতে রাস্তায় নেমেছিলেন বাদাম বিক্রি করতে। তবে লোকজন যাতে তাকে চিনে না ফেলে সেজন্য বোরকা পরেই বাদাম বিক্রি করেন লতা রায়।
লতা রায়ের বা'দাম বিক্রির বি'
ষয়সহ তার পারিবারিক অবস্থা স্থানীয় মাধ্যমে জানতে পারেন নীলফামা'রী সদর আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। তবে তিনি ঢাকায় থা'কায় বিষয়টি খোঁজ নিতে সদর উপজে'লা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়াদুদ রহমান ও জে'লা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক ইস'রাত জাহান পল্ল'বীকে রোববার (১৪ মা'র্চ) লতার বাড়িতে পাঠান। সেখানে আসাদুজ্জামান নূর মোবাইলে লতার সঙ্গে কথা বলেন এবং তার মা'থাব্যথার চিকিৎসা'সহ লেখাপড়া দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পাশাপাশি তাৎক্ষণিকভাবে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয় লতা রায়কে।
নীলফামা'রী সদরের গোড়গ্রাম ইউনিয়নের ডারারপাড় নিজপাড়া গ্রামের জগন্দ্র রায়ের মে'য়ে লতা রায়।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, লতার বয়স যখন সাড়ে ৪ বছর তখন তার মা ভানুমতি রায় মা'রা যান। বাবা জগন্দ্র রায় দ্বিতীয় বিয়ে করেন। সেই ঘরে রয়েছে হিমন রায় নামের ১৫ বছরের ছে'লে। সংসারে অভাব অনটন থাকায় এখন লতা রায়ের বাবা ঢাকায় ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করছেন। সংসারে অভাব-অনটন থাকায় প্রাইভেট পড়িয়ে নিজের লিখাপড়ার খরচ জুগিয়ে আসছিলেন এতদিন। তবে মেডিকেলে পড়ার খরচ অনেক। তাই বাড়তি আয়ের জন্য বাদাম বিক্রির পথ বেছে নিয়েছেন লতা রায়।
লতা বলেন, আমা'র পরিবারে আমি বড় সন্তান (মে'য়ে) হওয়ায় রোজগার করার সক্ষমতা হারাতে চাই না। তাই চলতি মাসের ৬ তারিখ থেকে বাদামের ব্যবসা শুরু করেছি।
এমপি আসাদুজ্জামান নূরের লেখাপড়ার দায়িত্বগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘একটি বড় হতাশা থেকে মুক্তি পেলাম। আমাদের সংসদ সদস্য আসাদুজ্জাান নূর আমা'র সব দায়-দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। আপনারা আমা'র জন্য প্রার্থনা করবেন, আমি যেন মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়ে একজন চিকিৎসক হতে পারি। চিকিৎসক হতে পারলে এলাকার গরিব-দুঃখী মানুষজনের চিকিৎসা'সেবা দিতে পারব।’
