২০১৯ সালের ২০ মা'র্চ জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিয়ে করেন সংগীত শিল্পী সাজিয়া সুলতানা পুতুল। কানাডা প্রবাসী আলোকচিত্রী নূরুল ইস'লামকে বিয়ে করেছেন তিনি। কিন্তু কিছুদিন না যেতেই তাদের বিয়ে বিচ্ছেদ হয়েছে। ১৪ মা'র্চ নিজেই বিচ্ছেদের কথা জানালেন পুতুল।
পুতুল বলেন, ‘২০১৯ সালেই আমাদের বিচ্ছেদ হয়েছে। তবে দিন তারিখ মনে নেই। মনে রেখেই
বা কি হবে? আমি তো বিচ্ছেদের পর স্বাভাবিক হয়ে আবার জীবনের ভেতর ঢুকেছি সেই কবেই।’
এত দিন পরে কেন বিষয়টি প্রকাশ করলেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি নিজেও বিষয়টা
ভুলে গিয়েছিলাম। কিন্তু সবাই বিয়ে বার্ষিকী'র শুভেচ্ছা জানাচ্ছে বলে বিষয়টা প্রকাশ
করে দিলাম আর কি! এর বেশি কিছু বলার নেই। আমা'র সামনের দিনগুলোর জন্য দোয়া করবেন।’
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পুতুল লিখেছেন, ‘দুই বছর আগে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ
হয়েছিলাম, ঢুকেছিলাম যুগল জীবনযাপনে। বিবাহিত জীবনের খুব অল্প দিনের মা'থায় বুঝেছিলাম
পথটা কঠিন থেকে কঠিনতর হচ্ছে। এই পথটা ঠিক যেনো আমা'র কল্পনার সেই পথটা নয়, যে পথে
আনন্দে হেঁটে নেয়া যায় অক্লেশে। মত আর আদর্শিক পার্থক্যগুলো নিছক পার্থক্য থেকে রূপ
নিচ্ছিলো চূড়ান্ত দ্বন্দ্বে। স'ম্পর্ক মুমূর্ষু হচ্ছিলো, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিলো আমা'র
সৃষ্টিশীল সত্তা।
বিচ্ছিন্নতার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম তখনই। হয়েছিলো বিচ্ছেদ। অ'তঃপর আবার আমা'র
সেই একক জীবনে ফেরা, সুর আর সাহিত্যের সাথে নির্বিঘ্ন একক সংসার। বিয়েটা ঘটা করে হবার
বিষয়, বিচ্ছেদে ঘটা করার কিছু নেই। বিচ্ছেদে বিষাদের সুর বাজে আত্মায়। সেই সুর মন পাড়াতে
একলা বাজা-ই ভালো। সকলকে নিয়ে সেই বিচ্ছেদী সুর উদযাপনের কিছু নেই। কিন্তু চূড়ান্ত
সত্য এই, সেই বিষাদে কোথাও মুক্তির গন্ধ মিশে থাকে, থাকে মুমূর্ষুতার অবসানে লম্বা
করে নিশ্বা'স নেয়া। জীবনটা বেঁচে ওঠার সুযোগ পায় আরো একবার। সেই জীবনটাকে বাঁচিয়ে দেয়া
জীবনের প্রতিই সুবিচার বলে বিশ্বা'স করি।
আজ এতো দিন পর এই কথাগুলো বলার একটাই কারণ। স'ম্পর্কটার ভিতরে থাকলে যৌথ জীবন
উদযাপনের দুই বছর হতো আজ। যেহেতু একক জীবনযাপন করছি, এই দিনটার কোনো বিশেষত্ব বা মহিমা
নেই। বছরের অন্য দিনগুলোর মতোই একটা তারিখ মাত্র। শুভেচ্ছা শুভকামনা জানানোর কিছু নেই।
জীবন সহ'জ হবার স্বপ্নে যেমনি শুভকামনা জানাই নিজেকে নিজে প্রতিদিন, আজও তা জানাচ্ছি।
ফেসবুক যতোই স্মৃ'তিতে ফেরাতে চাক দুই বছর আগের আজকের দিনে, নিজের কাছে নিজের প্রত্যয়
কেবলই সামনে তাকানোর।’
