কোন দিকে দেশের শেয়ার বাজার?

 দীর্ঘ'দিনের' বদ'নাম' ঝে'ড়ে কি'ছুদিন ভালো'ই সু'নাম কুড়ি'য়েছিল দে'শের শে'য়ার বাজা'র। কিন্তু' বিনি'য়োগকারীদের আ'স্থা ফির'তে না ফির'তেই ফে'র দা'না বাঁধ'তে শুরু' করে'ছে হতা'শা। গত' বছরের শেষ ছয় মাস' দাপুটে লেনদেনের শেয়ার বাজার হঠাৎ হারিয়েছে ছন্দ।


ঢা'কা স্ট'ক এক্সচেঞ্জে'র (ডিএ'সইর) বা'জার মূল'ধন একস'ময় ৫ 'লাখ কো'টি টা'কা ছা'ড়িয়ে যায়। কিন্তু' গত সা'ড়ে তি'ন মা'স ধরে বা'জার অনে'কটাই গতি'হীন। গত 'সপ্তা'হের' শেষ' কার্যদি'বস বৃহ'স্পতিবার এ'বং চ'লতি সপ্তা'হের প্র'থম কার্যদি'বস রবি'বার- প'র প'র দুই 'দিন ধস 'নামায় ডি'এসইর প্রধান সূচক ১৬'৫ পয়েন্ট কমে।

এই 'দুই দিনের বড় দর'পতনের কার'ণ খ'তিয়ে দেখতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ব্রোকারদের সংগঠন ডিবিএ ও মার্চেন্ট ব্যাংকারদের সংগঠন বিএমবিএ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

এই বৈঠকের পরও সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস সোমবার (২২ মার্চ) লেনদেনের শুরুতে ভয়াবহ পতন দেখা দেয়। অবশ্য শেষ পর্যন্ত বাজারে উল্লম্ফনই ঘটে।

বা'জার বিশ্লেষক'রা বল'ছেন, নিয়'ন্ত্রক সংস্থায়' নতুন নেতৃ'ত্ব আসার পর বিনিয়োগকারীরা আশাবাদী হয়ে ওঠেন। নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব নেওয়ার পর বড় কোম্পানি বাজারে আসার পাশাপাশি সুশাসন প্রতিষ্ঠায়ও মনযোগ দেয়।

তথ্য' বলছে, ২'০২'০ সালের' শেষ স'ময়ে একদিকে নিয়ন্ত্রক সংস্থায় নতুন নেতৃত্ব এবং অন্যদিকে মোবাইল কোম্পানি রবি ও দেশের শীর্ষস্থানীয় করপোরেট গ্রুপ ওয়ালটন আসায় শেয়ার লেনদেনের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ে। প্রায় ১০ বছর পর অনেকেই সম্ভাবনা দেখতে থাকে এই বাজার নিয়ে। আসতে থাকে নতুন বিনিয়োগও।

কিন্তু ২০২১ সালের শুরু থেকেই বাজার হারায় গতি। শেয়ার বাজারে লকডাউনের ‘গুজব’ থামাতে বিএসইসিকে একটি বিজ্ঞপ্তি পর্যন্ত প্রকাশ করতে হয়। তাতে বলা হয়, ব্যাংকের কার্যক্রম চালু থাকলে শেয়ার বাজারের লেনদেনও অব্যাহত থাকবে। এ ব্যাপারে বিনিয়োগকারীদের কোনও গুজবে কান না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম স্বাক্ষরিত এ বিজ্ঞপ্তি সোমবার (২২ মার্চ) প্রকাশ হয়েছে।

প্রসঙ্গত, করোনার প্রকোপ বাড়তে থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আবারও আলোচনায় আসে লকডাউন প্রসঙ্গ। লকডাউনের ঘোষণা এলে শেয়ার বাজারের লেনদেন ফের বন্ধ হতে পারে-এমন গুজবে গত দুদিন বড় দরপতন ঘটে। এ অবস্থায় বিএসইসি ২২ মার্চ দুপুরের পর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।

ব্রোকার হাউজ কর্তৃপক্ষ ও বিনিয়োগকারীদের গুজব থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিএসইসি কমিশনার অধ্যাপক ড. শেখ সামসুদ্দিন আহমেদ। রবিবার (২১ মার্চ) ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ) ও ১০ শীর্ষ ব্রোকারেজ হাউজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের (সিইও) সঙ্গে বৈঠক শেষে এ কথা বলেন তিনি।

ড. শেখ সামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘গত কয়েকদিনে পুঁজিবাজারে কারসাজি হয়েছে কিনা বিষয়টি মূল্যায়ন করার চেষ্টা করছি। তবে পুঁজিবাজারে উত্থান-পতন থাকাটাই স্বাভাবিক।’

ডিএসই ব্রোকারেজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সাবেক সভাপতি আহমেদ রশিদ লালী মনে করেন, দেরিতে হলেও বাজার আবার ঘুরে দাঁড়াবে। কয়েকটি কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি এবং সরকারি অন্যান্য সংস্থার মধ্যে যে সমন্বয়হীনতা ছিল, তা কমেছে। যার প্রভাব দীর্ঘ ছয় মাস বাজারে পড়েছিল। বাজার গতিশীল হওয়ার আরেকটি অন্যতম কারণ ছিল ব্যাংকের ঋণ ও আমানতের সুদের হার কম থাকা। অনেকেই এ কারণে শেয়ার বাজারে এসেছেন।

তি'নি আরও বলেন, ব্যাংক'গুলোতে পর্যা


প্ত তারল্য রয়েছে। শেয়ার বাজারেও তারল্যের সংকট নেই। বাজারকে নিজস্ব শক্তিতে চলতে দিতে হবে। কোনও হস্তক্ষেপ ও সূচক নিয়ন্ত্রণ করা ঠিক হবে না। এ ছাড়া সিন্ডিকেটেড রেট (কয়েকটি ব্রোকারেজ হাউজ সিন্ডিকেট করে কোনও কোম্পানির দাম নিজেরা বাড়িয়ে-কমিয়ে বেচা-কেনা করে) নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

এদিকে এনআরবি কমারশিয়াল (এনআরবিসি) ব্যাংক শেয়ার বাজারে যুক্ত হয়েছে। ১২ বছর পর দেশের শেয়ার বাজারে নতুন একটি ব্যাংক তালিকাভুক্ত হলো। এনআরবিসি ব্যাংক প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিওতে ১২ কোটি শেয়ার ছেড়ে ১২০ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে। আইপিওতে প্রতিটি শেয়ার ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে বিক্রি করা হয়। এর আগে শেয়ার বাজারে সর্বশেষ তালিকাভুক্ত ব্যাংক ছিল ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক। ২০০৮ সালে ব্যাংকটি শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছিল। শেয়ার বাজারে এখন ব্যাংকের সংখ্যা ৩১। এর মধ্যে একমাত্র রূপালী ব্যাংক ছাড়া বাকি ৩০টিই দেশীয় মালিকানাধীন বেসরকারি ব্যাংক।

Post a Comment

Previous Post Next Post