বৃদ্ধ মা-বাবাকে বেঁধে মারধর, ছেলে আটক

 


১৬ শতাংশ জায়গা নিজেদের নামে লিখে নিতে চেয়ে ছিল ছেলে। বাবা-মা রাজি না হলে তাদের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করে দুই ছেলে। এমন অভিযোগ ওঠে মঞ্জুল মিয়া (৪২) ও হাকিম মিয়া (২২) এর নামে। এই ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত এক ভাই কে আটক করতে পেরেছে। আহত বাবা-মাকে স্থানীয় উপজিলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার দশাল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।


অভিযুক্ত দুই ছেলের মধ্যে হাকিমকে আটক করে পুলিশ।


এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দশাল গ্রামের বাসিন্দা শাহেব আলীর (৭২) দ্বিতীয় স্ত্রী মজিদা খাতুন পৈতৃক সূত্রে ১৬ শতাংশ জায়গা পান। ওই জায়গায় তিনি তাঁর স্বামী, নিজের ছেলে ফজুল মিয়া (২৯), সৎছেলে মঞ্জুল মিয়া ও হাকিম মিয়াকে নিয়ে বসবাস করে আসছেন। সম্প্রতি মঞ্জুল ও হাকিম জায়গাটি তাঁদের নামে লিখে দেওয়ার জন্য মজিদাকে বিভিন্নভাবে চাপ দিচ্ছেন। কিন্তু মজিদা এতে রাজি নন। গতকাল সন্ধ্যায় আবারও দুই ভাই ওই জায়গার জন্য মজিদাকে চাপাচাপি করতে থাকেন। একপর্যায়ে মজিদাকে ঘরে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করেন তাঁরা। এতে তিনি আহত হন। পরে তাঁর স্বামী বাধা দিতে গেলে তাঁকেও একইভাবে বেঁধে মারধর করেন তাঁরা। খবর পেয়ে অপর ছেলে ফজলু মিয়া ও প্রতিবেশীরা তাঁদের উদ্ধার করে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন। পরে পুলিশ হাকিমকে আটক করে। এ ঘটনায় ফজলু মিয়া বাদী হয়ে রাতেই দুই ভাইয়ের নামে থানায় মামলা করেন।


দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহনুর আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আজ রোববার সকালে বলেন, বিষয়টি খুবই অমানবিক। আটক হাকিমকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাঁকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। অপর আসামি মঞ্জুল মিয়াকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। 

Post a Comment

Previous Post Next Post