
যেভাবে পিকে হালদারের বান্ধবী হন নাহিদা-শুরুটা অফিস এক্সিকিউটিভ থেকে। ২০১২ সালে জীবিকার সন্ধানে ঢাকায় এসেছিলেন নাহিদা রুনাই। চট্টগ্রামের খুলশী থা'নার পূর্ব নাসিরাবাদ এলাকায় সাধারণ পরিবারের মে'য়ে তিনি। তার বাবা মফিজুর রহমান চট্টগ্রামে একটি সরকারি
দপ্তরে ‘করণিক’ পদে চাকরি করতেন। আর সেই নারী ঢাকায় এসে পাঁচ বছরেই শত কোটি টাকার মালিক হয়ে যান। নাহিদা রুনাইয়ের এই ‘আলাদীনের চেরাগ’ হচ্ছেন হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে কানাডা পালিয়ে যাওয়া প্রশান্ত কুমা'র (পি কে) হালদার। চাকরির খোঁজে ঢাকায় এসে
নাহিদা রুনাই অফিস এক্সিকিউটিভ হিসেবে যোগদান করেন প্রশান্ত কুমা'র ওরফে পি কে হালদারের প্রতিষ্ঠান রিলায়েন্স ফিন্যান্স লিমিটেডে। এর পর আর পেছনে তাকাতে হয়নি তাকে। প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পি কে হালদারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা যতই বাড়তে থাকে ততই সম্পদশালী হতে
থাকেন নাহিদা। এক সময় এমডি পিকে হালদারের বান্ধবী হয়ে যান নাহিদা। কপাল খুলে যায় তার। কোটি কোটি টাকা মালিক বনে যান রাতারাতি। নাহিদা রুনাইয়ের প্রায় ২৮ কোটি টাকার স্থাবর সম্পদের সন্ধান পেয়েছে দু’র্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অনুসন্ধান দল। এছাড়া তার
ব্যাংক হিসাবে প্রায় ৭০ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে বলে তথ্য পেয়েছে দুদক। দুদক সূত্র জানায়, পি কে হালদারের অর্থ পাচারের বিষয়গুলো দেখভাল করতেন নাহিদা। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকসহ অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও সরকারের ওপর মহলকে ম্যানেজ করতেন তিনি। আর এসব
কাজের পুরস্কার হিসেবে নাহিদাকে শূন্য থেকে কোটিপতি বানিয়েছেন পি কে হালদার। এসএমই পলান শাখার অফিস এক্সিকিউটিভ থেকে এক সময় পি কে হালদারের ঘনিষ্ঠজনদের কাছে ‘বড় আপা’ হিসেবে পরিচিতি পান রুনাই। রিলায়েন্স ফিন্যান্স থেকে নাহিদাকে ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ে নিয়ে আসেন পি কে হালদার। দ্রুততম সময়ে চারটি পদোন্নতি দিয়ে তাকে ভাইস প্রেসিডেন্ট করেন।
পিপলস লিজিংয়ের চেয়ারম্যান উজ্জ্বল কুমা'র নন্দী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, নাহিদা রুনাই ছাড়াও পি কে হালদারের ঘনিষ্ঠ আরেকজন বান্ধবী ছিলেন অবন্তিকা বড়াল। দুই বান্ধবী নাহিদা রুনাই ও অবন্তিকা বড়ালকে নিয়ে অন্তত ২০-২৫ বার বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করেছেন। এই দু’জনের সঙ্গে তিনি পৃথকভাবে ২০ থেকে ২৫ বার সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ড ভ্রমণ করেছেন। ঢাকার বিভিন্ন ক্লাবে রুনাই ও অবন্তিকার সঙ্গে পি কে হালদারকে আলাদাভাবে সময় কা’টাতে দেখা যায়।
দুদকের এক কর্মক'র্তা জানান, নাহিদা রুনাই আনান কেমিকেল লিমিটেড নামে একটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র তৈরি করে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড থেকে ৭০ কোটি টাকা উত্তোলন করে আ’ত্মসাৎ করেছেন। এ ঘ’টনায় জানুয়ারি মাসে দা’য়ের করা একটি মা’মলায় নাহিদাকে গ্রেফ’তার দেখা’নো হয়েছে।
এছাড়া নাহিদার বি’রুদ্ধে পি কে হালদার সংশ্লিষ্ট আরও ১০ টি মা’মলার অনুমোদন রয়েছেন। এসব মা’মলায়ও তাকে গ্রে’ফতার দেখানো হবে।মঙ্গলবার পি কে হালদারের আ'লোচিত এই বান্ধবী নাহিদা রুনাইকে গ্রে’ফতার করেছে দুর্নী’তি দমন কমিশন (দুদক)। এর আগে চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি পি কে হালদারের আরেক বান্ধবী অবন্তিকা বড়ালকে গ্রে’ফতার করা হয়। এ দুজনের জবানব'ন্দিতে অর্থ আ’ত্মসাতের এসব চা’ঞ্চল্যকর তথ্য উ’ঠে এসেছে।
প্রসঙ্গত গত বছরের জানুয়ারিতে ২৭৫ কোটি টাকার অবৈ’ধ সম্পদ অ’র্জন ও পাচারের অ'ভিযোগে পি কে হালদারের বি'রুদ্ধে একটি মাম’লা করে দুদক। সেই মা’মলার ত’দন্তে এখন পর্যন্ত প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা আ’ত্মসাৎ ও পাচা’রের তথ্য পেয়েছে ‘মা'মলার ত'দন্ত সংস্থা। মা’মলা দা’য়েরের আগেই পি কে হালদার পালিয়ে কানাডা চলে যান। পালিয়ে যাওয়ার আগে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন তিনি।